বাইকার-অটোরিকশাচালকদের দুঃসংবাদ দিল সরকার
নতুন অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব বাড়াতে একের পর এক কর-ভ্যাট বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে সরকার। নিত্যপণ্যে উৎসে কর বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ ভ্যাট এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা-মোটরসাইকেল নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাবে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আজ (১৪ মে) বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত হতে পারে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্ব বৈঠকে আরও অংশ নেবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ বাজেটসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই এসব বিষয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছর বাজেট প্রণয়নের আগে এনবিআর বাণিজ্য সংগঠন, খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন, বিভাগীয় ও জেলা চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব বৈঠকে প্রাপ্ত সুপারিশ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়। সেই রূপরেখা চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এনবিআর।এরই ধারাবাহিকতায় আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবে এনবিআর। এতে রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআরের প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন-ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা, করপোরেট কর হার, রপ্তানির উৎসে কর, পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট-সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সে অনুযায়ী বাজেট চূড়ান্ত করা হয়।সূত্র জানায়, এবারের বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়াতে নিত্যপণ্য সরবরাহে উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, মটর, বছালা, মসুর, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, বীজ, পাটকাঠি, সরিষা, তিল, কাঁচা চা-পাতা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা এবং পাট সরবরাহের উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক শতাংশ করা হতে পারে। এতে বাজারে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।পাশাপাশি রপ্তানি প্রণোদনার উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হতে পারে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে রপ্তানি প্রণোদনার জন্য সরকার ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী অর্থবছরেও রপ্তানি পরিস্থিতি ও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত থাকলে উৎসে করের হার দ্বিগুণ করার মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারে।/টিএ