
যে ৫ অভ্যাসে অজান্তেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার দাঁত
বর্তমান সময়ে ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে দাঁতের শিরশিরানি (সেনসিটিভিটি), এনামেল ক্ষয় বা দাঁতের ধার ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একসময় এসব সমস্যাকে বার্ধক্যজনিত মনে করা হলেও, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এটি প্রকট। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভারতের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৭ শতাংশ দন্ত রোগী এনামেল ক্ষয়ের শিকার। বাংলাদেশের দন্ত চিকিৎসকরাও একই ধরণের প্রবণতা লক্ষ্য করছেন।আশ্চর্যের বিষয় হলো, দাঁতের এই ক্ষতি বাইরের কোনো কারণে নয়, বরং আমাদের অতি পরিচিত এবং আপাতদৃষ্টিতে ‘ভালো’ মনে হওয়া ৫টি অভ্যাসের কারণেই হচ্ছে। দেখে নিন আপনার অজান্তেই কোন ভুলগুলো দাঁতকে দুর্বল করে দিচ্ছে:১. জোরে ব্রাশ করলেই দাঁত পরিষ্কার হয়—এই ভুল ধারণাঅনেকেই মনে করেন ব্রাশ দিয়ে জোরে ঘষলে দাঁত বেশি সাদা ও পরিষ্কার হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি এনামেলের জন্য সবথেকে বড় শত্রু। অতিরিক্ত জোরে বা শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতের উপরের পাতলা সুরক্ষামূলক স্তর (Enamel) চিরতরে ক্ষয়ে যেতে পারে। এর ফলে দাঁত দ্রুত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং শিরশিরানি শুরু হয়।২. অ্যাসিডিক ও চিনিযুক্ত খাবারের প্রভাবআধুনিক জীবনযাত্রায় কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত চা-কফি বা লেবুর রসের মতো অ্যাসিডিক পানীয়র ব্যবহার বেড়েছে। এই পানীয়র প্রতিটি চুমুক দাঁতের এনামেলকে নরম করে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এসব খাবারের সংস্পর্শে থাকলে দাঁত ধীরে ধীরে তার উজ্জ্বলতা হারায় এবং ক্ষয়ে যেতে থাকে। এক্ষেত্রে স্ট্র ব্যবহার করা বা পানীয় পানের পর জল দিয়ে মুখ ধোয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করালালা (Saliva) হলো দাঁতের প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবজ। এটি মুখের অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে এবং এনামেলকে খনিজ সরবরাহ করে। কিন্তু যারা পর্যাপ্ত পানি পান করেন না বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করেন, তাদের মুখে লালার প্রবাহ কমে যায়। এতে দাঁত অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়।৪. ঘরে বসে দাঁত সাদা করার বিপজ্জনক চেষ্টাসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে অনেকেই এখন লেবুর রস, বেকিং সোডা বা অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দিয়ে বাড়িতেই দাঁত সাদা করার চেষ্টা করেন। চিকিৎসকদের মতে, এসব উপাদান প্রচণ্ড ঘর্ষণকারী ও অম্লীয়। এগুলো দাঁতকে সাময়িক উজ্জ্বল করলেও দীর্ঘমেয়াদে এনামেলের অপূরণীয় ক্ষতি করে। এতে দাঁত আরও দ্রুত হলুদ হয়ে যায়।৫. ভুল টুথপেস্ট নির্বাচনবাজারে প্রচলিত অনেক টুথপেস্ট কেবল দাঁত পরিষ্কার বা নিঃশ্বাসে সতেজতা আনার দিকে নজর দেয়। কিন্তু এনামেল সুরক্ষায় সেগুলো কার্যকর নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনামেল একবার ক্ষয়ে গেলে তা আর প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসে না। তাই সাধারণ টুথপেস্টের বদলে এমন টুথপেস্ট বেছে নেওয়া উচিত যা খনিজ পুনঃস্থাপনে সাহায্য করে এবং এনামেলকে শক্তিশালী করে।বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?দন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, এনামেল রক্ষা করতে নরম বা সফট ব্রাশ ব্যবহার করা এবং অন্তত দুই মিনিট সময় নিয়ে আলতোভাবে দাঁত মাজা। এছাড়া মিষ্টি বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পরপরই ব্রাশ না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত, যাতে লালা তার কাজ করার সময় পায়।মনে রাখবেন, সুস্থ হাসি কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, এটি মজবুত এনামেল ও সঠিক যত্নের প্রতিফলন। তাই আজই আপনার এই বদভ্যাসগুলো পরিবর্তন করুন।সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়াটিএ/