
কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে ঘাড়ে ব্যথা হয়?
ঘাড়ে ব্যথা এখন অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। কারও ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, আবার কারও সামান্য নড়াচড়াতেই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেও কিছুদিন পর একই সমস্যা আবার ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যথা কমানোর ওষুধ নয়, সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।ভারতীয় পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্রের বরাত দিয়ে নিউজ এইট্টিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারই ঘাড়ে ব্যথার একমাত্র কারণ নয়। তার মতে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিলে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেকেই মনে করেন শুধু সূর্যের আলো থেকেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। তবে বাস্তবে সূর্যালোক থেকে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি ও কার্যকর হতে সময় লাগে। তাই খাদ্য থেকেই ভিটামিন ডি গ্রহণ করা বেশি কার্যকর হতে পারে। তৈলাক্ত মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই, ওটস এবং বিভিন্ন দানাশস্য ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত।এ ছাড়া হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম করলে ঘাড়ের পেশিতে টান লাগতে পারে। শরীরে প্রোটিনের ঘাটতিও পেশি দুর্বল ও শক্ত হয়ে যাওয়ার একটি কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, পনির, ডাল, শিম, সয়াবিন ও টোফুর মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে পেশির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং এ ধরনের সমস্যা কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।অন্যদিকে, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এবং শরীরে পানির অভাবও ঘাড়ের ব্যথা বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানি পান করলেই হবে না, শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে যারা বেশি খেলাধুলা করেন বা অতিরিক্ত ঘাম ঝরান, তাদের জন্য ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখা জরুরি। তবে দীর্ঘদিন ঘাড়ে ব্যথা বা পেশি শক্ত হয়ে থাকার সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।/টি