logo
/আন্তর্জাতিক
আমিরাতে ইরানের শক্তিশালী মিসাইল হামলা - image

আমিরাতে ইরানের শক্তিশালী মিসাইল হামলা

03 মার্চ 2026, সকাল 11:18

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় ধরনের মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময়) এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। এই আকস্মিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, ইরান থেকে ছোঁড়া একঝাঁক ব্যালিস্টিক মিসাইল দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এই হামলার পরপরই দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।হামলা প্রতিহত করতে বর্তমানে আমিরাতের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে। তারা মিসাইলের ঝাঁকগুলোকে মাঝআকাশে ধ্বংস করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সক্রিয় রাখা হয়েছে।আমিরাতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপদে রাখতে তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত। এই লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।এখন পর্যন্ত এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ইরান কেন এই হামলা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আলজাজিরা জানিয়েছে, তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং নিয়মিত আপডেট প্রদান করছে।/টিএ

মার্চ ০৩, ২০২৬

ইরানই আমেরিকার একমাত্র হুমকি, দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরান কেবল মৌখিকভাবেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তার মতে, ইরানই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা প্রকাশ্যে এমন ধ্বংসাত্মক ইচ্ছার কথা প্রচার করে।চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন নতুন গোপন স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার তৈরি করছে। সম্ভাব্য যেকোনো হামলা থেকে বাঁচতেই তারা এই কৌশল গ্রহণ করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মতে, ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদের সংকেত দিচ্ছে।নেতানিয়াহু এই সময়োচিত পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে হয়তো আর কিছুই করার থাকতো না। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিশ্বব্যাপী চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেওয়ার নীল নকশা সাজিয়েছে। আর এই ঝুঁকি এড়াতেই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা এবং বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেও ইরান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের একগুঁয়েমির কারণেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।পরিশেষে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের এই শক্তিশালী জোটবদ্ধ অবস্থানই ইরানকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তি হওয়া থেকে রুখে দেবে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে জানা যায়, এই যৌথ প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্যই হলো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।/টিএ

মার্চ ০৩, ২০২৬

ইরানের হামলায় কুয়েতে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। দুর্ঘটনাটি শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং বিমানটির ধরন নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রাথমিকভাবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ বলে ধারণা করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও দেখে অনেকে বলছেন—এটি হয়তো এফ-১৬।লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই ও ইউকে ডিফেন্স জার্নাল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েতে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও কৌতূহল দুটোই বাড়ছে।স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, বিমানের দুই পাইলটই নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও তাদের জাতীয়তা—আমেরিকান না ইসরায়েলি—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত দুটি যুদ্ধবিমান—এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন ও এফ-১৫ ঈগল।একক ইঞ্জিনবিশিষ্ট এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন আকাশযুদ্ধ ও স্থল হামলা—উভয় ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর। এর ফ্লাই-বাই-ওয়্যার কন্ট্রোল সিস্টেম ও বাবল ক্যানোপি পাইলটকে উন্নত নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তৃত দৃশ্যমানতা দেয়। ঘণ্টায় প্রায় ২,৪১৪ কিলোমিটার গতিবেগসম্পন্ন এই বহুমুখী জেট বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফাইটার বিমান।অন্যদিকে, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এফ-১৫ ঈগল মূলত আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরি। এটি অধিক উচ্চতায় উঠতে পারে এবং এফ-১৬-এর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ অস্ত্র বহনে সক্ষম। ঘণ্টায় প্রায় ২,৬৫৫ কিলোমিটার গতিবেগসম্পন্ন এ জেট আকাশযুদ্ধে সাফল্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দামের ক্ষেত্রেও পার্থক্য স্পষ্ট—এফ-১৬-এর আধুনিক ‘ব্লক ৭০/৭২’ সংস্করণের ইউনিটপ্রতি মূল্য প্রায় ৬৩-৭০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে এফ-১৫-এর ‘এফ-১৫ইএক্স ঈগল ২’ সংস্করণের দাম ৯৪-৯৭ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাডার প্রযুক্তি, ইঞ্জিন শক্তি, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা ও কৌশলগত উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণেই এই দুই মডেলের বৈশিষ্ট্য ও মূল্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়।

মার্চ ০২, ২০২৬

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটি। ইরানের ফার্স নিউজ জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালেই নিহত হন খামেনি।রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, খামেনি তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলার সময় তিনি তার অফিসে ছিলেন বলেও জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।শনিবার সকালে এই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয় বলেও জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা, নাতি ও পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন।/টিএ

মার্চ ০১, ২০২৬

ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৮ জন আটক

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করেছে কর্ণাটক রাজ্য পুলিশ।  আটকদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।জানা গেছে, ১৮ জনের মধ্যে শিশু বাদে বাকিরা বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন। দীর্ঘ দিন সেখানে থাকতেন। তবে সম্প্রতি তাদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হওয়ায় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের নাগরিকত্ব বিষয়ক বৈধ নথিপত্র দেখতে চাইলে, তারা তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে আটক করা হয়েছে এই ১৮ জনকে। কোনো বৈধ নথিপত্রও তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালের দিকে বেঙ্গালুরু-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসে চাপিয়ে তাদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়। তার পরে তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়।হাওড়া স্টেশনে আনার পর এই ১৮ জনকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে, তা স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করা হলেও, তারা কোনও উত্তর দিতে রাজি হননি।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

যে কোনো হামলার ‘ভয়ংকর’ জবাব দেবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হামলা—তা সীমিত হলেও—‘ভয়ংকরভাবে’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পর সোমবার তেহরান থেকে এই কড়া বার্তা আসে। খবর Agence France-Presse (এএফপি)।বৃহস্পতিবার পুনরায় শুরু হতে যাওয়া পারমাণবিক আলোচনায় ইরানকে চুক্তিতে আনতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে তেহরানে সীমিত হামলা চালানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমিত হামলাসহ যেকোনো আঘাতই স্পষ্টত ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তেহরানে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব ভয়ংকরভাবে দেওয়া হবে—ইরানও তার ব্যতিক্রম হবে না।এরই মধ্যে ওমান–এর মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ড–এ দুই দেশের দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরান ও ওমান জানিয়েছে, পরবর্তী দফার বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।আলোচনার আগে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, অঞ্চলটি আরেকটি যুদ্ধ সামলাতে পারবে না। যদিও ইরান স্পষ্ট করেছে, মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা হবে; পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি—যা তেহরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মালয়েশিয়ায়

৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় বোর্নিও দ্বীপে । রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়।ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাবাহ রাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার।তবে উৎপত্তিস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা সুনামির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গভীর সমুদ্রে বা ভূ-অভ্যন্তরের অনেক নিচে কম্পন সৃষ্টি হওয়ায় উপকূলে এর প্রভাব নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

পাকিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প, আতঙ্কে ঘর ছাড়লেন মানুষ

হঠাৎ কেঁপে উঠল পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯ বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৯ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের দুর্গম হিন্দুকুশ পর্বতাঞ্চল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০১ কিলোমিটার।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শাংলা, সোয়াত, মারদান, সোয়াবি ও নওশেরা জেলায় কম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ কাঁপুনিতে বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ইফতার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আকস্মিক কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ৫ দশমিক ৫ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ওই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তান প্রদেশে, খুজদার শহর থেকে প্রায় ৭৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রকেট মহড়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারও শক্তি প্রদর্শনে নামছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে রকেট নিক্ষেপের মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মহড়ার সময় আকাশপথে কোনো বিমান চলাচল না করার জন্য বৈমানিকদের সংস্থা নোটামকে আগাম অবহিত করেছে তেহরান।বার্তাসংস্থা Reuters জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল প্রশাসনের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে। এতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আকাশসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Hormuz Strait-এ নৌমহড়া চালায়। পাশাপাশি আজ রুশ নৌবাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে দেশটির।অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে তারা বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।তবে কূটনৈতিক তৎপরতাও পুরোপুরি থেমে নেই। গত দুই সপ্তাহে দুই দফা আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance বুধবার বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সে বিষয়টি এখনো বিবেচনায় রয়েছে।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ: তেলের বাজারে স্বস্তির হাওয়া

উত্তেজনা, কূটনীতি আর জ্বালানি বাজার—তিনটি শব্দেই ধরা যায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনার সাম্প্রতিক চিত্র। দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে দুই দেশ কয়েকটি নীতিমালার ওপর সমঝোতায় পৌঁছালেও এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির পথে হাঁটছে না তারা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।মঙ্গলবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা ঘিরে ইতিবাচক বার্তা আসতেই বৈশ্বিক তেলের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে যায়, যা ইঙ্গিত দেয়—সংঘাতের আশঙ্কা কমলে জ্বালানি বাজারও দ্রুত সাড়া দেয়।আলোচনা শেষে ইরানের গণমাধ্যমকে আরাগচি বলেন, বিভিন্ন প্রস্তাবিত বিষয় নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকটি নির্দেশিকা নীতিমালায় সাধারণ ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এসব সমঝোতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির আগে আরও জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হবে।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, অগ্রগতি হলেও এখনও অনেক কাজ বাকি এবং পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে।এদিকে আলোচনা শুরুর পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রেভোলিউশনারি গার্ডের সামরিক মহড়া ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। অতীতে উত্তেজনা বাড়লেই তেহরান এই প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছে। বাস্তবে এটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হবে, ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

নিরাপত্তা সংকটে নাইজেরিয়া, সেনা পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র

আফ্রিকার প্রভাবশালী দেশ নাইজেরিয়াতে আইএসপন্থি জঙ্গিদের দমন করতে সরাসরি সহায়তায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ২০০ জন এবং পরে আরও ১০০ জন—মোট প্রায় ৩০০ মার্কিন সেনা ইতোমধ্যে দেশটিতে অবস্থান নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় এই সামরিক সহায়তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৬৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ১৩০ জন। জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫৩ দশমিক ৫০ শতাংশ মুসলিম, ৪৫ দশমিক ৯০ শতাংশ খ্রিস্টান এবং বাকিরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। ধর্মীয় বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।প্রায় এক যুগ আগে দেশটিতে আইএসের উত্থান ঘটে। গত দশ বছরে ডাকাতি, লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণ, বোমা হামলা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং নারীদের অপহরণ করে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি—এমন নানা নৃশংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে জঙ্গিরা। তাদের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন মুসলিম ও খ্রিস্টান—উভয় সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ।জঙ্গিদের দমন করতে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী বহু অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে কয়েক বছর চেষ্টার পরও দৃশ্যমান বড় কোনো সাফল্য আসেনি। বরং সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক সেনাসদস্য ও কর্মকর্তা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।এই প্রেক্ষাপটে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চায় নাইজেরিয়ার সরকার, এবং ওয়াশিংটন তাতে সম্মতি দেয়। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা মূলত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসেছেন; তারা সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবেন না।সূত্র: রয়টার্স

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত রাশিয়ার তামান বন্দর

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর তামান বন্দর। রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে অবস্থিত এই বন্দরকে লক্ষ্য করে শনিবার দিবাগত রাতে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ দাবি করেছেন, ড্রোন হামলায় তেলের সংরক্ষণাগার, গুদাম ও টার্মিনাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন।একই রাতে কৃষ্ণ সাগর উপকূলের পর্যটননগরী সোচি এবং আনাপার ইউরোভকা গ্রামেও ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যদিও এসব এলাকা থেকে বড় ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।অন্যদিকে ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ তামান বন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। দেশটির সেনাপ্রধানের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়ার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো ভবিষ্যতেও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, কৃষ্ণ সাগর ঘিরে এ ধরনের আঘাত কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি করছে। তামান বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও সরবরাহ চেইনে প্রভাব পড়তে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে।/টিএ

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
footer small logo

Design & Developed by:

developed-company-logo