logo
youtube logotwitter logofacebook logo
/আন্তর্জাতিক
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া - image

এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া

16 অক্টোবর 2026, 11:25 AM

এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়ারাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭।ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১৪০ কিলোমিটার।স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে কোনো ঝুঁকি নেই।ভূমিকম্পের প্রভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বড় একটি অংশে তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, অথচ তাদের নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯।যদি এই সতর্কতা সঠিক হতো, তবে এটি হতো এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।কামচাতকা উপদ্বীপটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক একটি টেকটোনিক বলয়ের ওপর অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল।গত বছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলের উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায়। সূত্র: এনডিটিভি

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

সংবাদমাধ্যমে গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সরকারের গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁসকারী কর্মকর্তাদের গুলি করে হত্যা করা উচিত। সম্প্রতি অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সামরিক অভিযানের মতো স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করা গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া উচিত। এর মধ্য দিয়ে তথ্য ফাঁস ঠেকাতে নিজের প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা আবারও তুলে ধরেন তিনি।ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সময়সূচি ও বিস্তারিত তথ্য একজন অসাধু কর্মকর্তা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, মিসৌরি থেকে রাত ১২টা ৭ মিনিটে সামরিক বিমান কখন উড্ডয়ন করবে, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের মতো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ধরনের তথ্য ফাঁসকারীদের ‘পৃথিবীর আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। এর আগেও তিনি মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের আসল শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন।জনসভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিকেরাও কার্যত তথ্য ফাঁসকারীদের মতো অপরাধ করছেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর প্রশাসন সরকারি তথ্য ফাঁস রোধে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর প্রস্তাব রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের তদন্তের অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন সদস্যকে মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা বা পলিগ্রাফের মুখোমুখি হতে হয়েছে।তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক সরকারি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে গোপন নথি রাখার অভিযোগের তদন্তের সূত্র ধরে ওয়াশিংটন পোস্টের এক নারী সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় আদালত জব্দ করা তথ্য ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ ছাড়া গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের চার সাংবাদিককে গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনি পদক্ষেপ ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরে সেই সমন প্রত্যাহার করে প্রশাসন।জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার যুক্তি তুলে ধরলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তথ্য ফাঁসকারীদের মৃত্যুদণ্ড বা গুলি করে হত্যার পক্ষে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে সাংবাদিক ও তাঁদের তথ্যসূত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করতে পারে। ফলে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সৌদি জোটের হামলার জবাবে পাল্টা হামলার কড়া হুঁশিয়ারি হুতিদের

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আকাশে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব বা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শহরটিতে আবারও হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর জবাবে পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে হুতিরা।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সানার আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে রাজধানীজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে হামলাটি সৌদি আরব নাকি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট চালিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার জবাব হামলার মাধ্যমেই দেওয়া হবে। তাদের ঘোষিত কৌশল হলো—বিমান হামলার জবাবে বিমান হামলা, রাজধানীতে হামলার জবাবে রাজধানীতে হামলা, বিমানবন্দরে হামলার জবাবে বিমানবন্দরে হামলা এবং জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাবে একই ধরনের স্থাপনায় হামলা।এই পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বহু বছর ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো ইয়েমেনি যাত্রীবাহী বিমান নেই। ফলে বিমানবন্দরটিতে হামলা হলে সৌদি আরবের তুলনায় ইয়েমেনের ক্ষতির ধরন ভিন্ন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে বিমানবন্দর বন্ধ থাকলেও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। তারা প্রতিদিনই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করে হামলা চালাতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা

অক্টোবর ১৫, ২০২৬

অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিল মোদি সরকার

বলিউড অভিনেতা ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিবাসনসংক্রান্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।ইমরান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী। বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া তার বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ জানানোর পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।মুম্বাইয়ের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ইমরানকে এ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে।ঘটনাটি ভারতে ওসিআই কার্ডধারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ওসিআই মর্যাদার মাধ্যমে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকেরা বসবাস ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পেলেও তারা ভারতের নাগরিকত্ব পান না। তবে এ মর্যাদার অধিকারী কাউকে কোন আইনি ভিত্তিতে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া যায়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।যে কারণে নোটিশগত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল।ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানাতে মুম্বাইয়ের এই কর্মসূচির ডাক দেন।বিক্ষোভস্থলের আশপাশে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের দাবি, কর্মসূচিটির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, প্রতিবাদ কর্মসূচি আজাদ ময়দানে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে।তবে সিজেপির কর্মীদের দাবি, তারা ইমেইলের মাধ্যমে পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু কোনো জবাব পাননি।আটক হওয়ার পর পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে ইনস্টাগ্রামে একটি সেলফি পোস্ট করেন ইমরান। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, আমাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিজেপি নেতারইমরান বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া মুম্বাই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য, ইমরান বিদেশি নাগরিক হওয়ায় রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অভিযোগে সোমাইয়া ওসিআই-সংক্রান্ত বিধান ও ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পুলিশের অনুমতি ছাড়া আয়োজিত কর্মসূচিতে একজন বিদেশি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।পরে ইমরানকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান সোমাইয়া। তার অভিযোগটি অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা এফআরআরওর কাছে পাঠানো হয়। এরপরই ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়ে কী বলেছিলেন ইমরান?বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইমরান জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যাননি। মুম্বাইয়ের একজন বাসিন্দা ও সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন।সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষের চলাফেরায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কেন তাদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।তিনি আরও বলেন, কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানাতে নয়, বরং নিজের নাগরিক পরিচয়েই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।ওসিআই কার্ডধারীদের অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কইমরান খানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ ভারতে ওসিআই কার্ডধারীদের অধিকার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।ওসিআই কার্ড ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করলেও এটি ভারতীয় নাগরিকত্বের সমতুল্য নয়। ফলে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে।তবে ইমরানের বিরুদ্ধে জারি করা নোটিশের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি এবং এর বিরুদ্ধে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাকে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে।তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সম্পর্ক শেষ হলেও পৃথিবীর যে দুই দেশে ডিভোর্সের কোনো নিয়মই নেই

সম্পর্ক শেষ হলেও পৃথিবীর যে দুই দেশে ডিভোর্সের কোনো নিয়মই নেইপ্রেম-ভালোবাসা ফুরিয়ে গেলে, জোর করে এক ছাদের নিচে থাকাটা অসহ্য যন্ত্রণার মতো মনে হয়। যখন মন আর মেলে না, তখন অনেক দম্পতিই চান সুন্দরভাবে একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে। কিন্তু চাইলেই কি এত সহজে সম্পর্কের সুতো ছেঁড়া যায়?অবাক করার মতো হলেও সত্যি, পৃথিবীর বুকে এমন দুটি দেশ আছে যেখানে আইনিভাবে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের কোনো সুযোগই নেই! ভালোবাসার ইতি ঘটলেও, আইনের চোখে সারাজীবন স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই থেকে যেতে হয়। সম্পর্কের চড়াই-উতরাই আর অদ্ভুত সব আইনি নিয়মের এমন এক বাস্তব ঘটনাই ঘটছে এই দুই দেশে, যা শুনলে হয়তো অনেকেই চমকে উঠবেন।প্রথমেই আসা যাক ফিলিপাইনের কথায়। দেশটিতে অধিকাংশ নাগরিকের জন্য সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই। তবে সম্পর্ক ভাঙলে দম্পতিরা আদালতের অনুমতি নিয়ে আলাদা থাকতে পারেন, কিন্তু বিয়ের বন্ধন টিকে থাকায় তারা নতুন করে কাউকে বিয়ে করতে পারেন না। আরেকটি পথ হলো বিয়ে বাতিল করা, যেখানে বিয়ের সময়ের কোনো আইনি ত্রুটি দেখিয়ে আদালত থেকে পুরো বিয়েটাই অবৈধ ঘোষণা করিয়ে নেওয়া যায়। অবশ্য দেশটির মুসলিম নাগরিকদের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে, তারা চাইলে নিজেদের ধর্মীয় আইন মেনে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন।এবার আসা যাক ভ্যাটিকান সিটির কথায়। ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বৈধ বিয়েকে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন হিসেবে দেখা হয় বলে এখানে বিবাহবিচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই। তবে দম্পতিরা চাইলে চার্চের অনুমতি নিয়ে আলাদা থাকতে পারেন, যদিও তাতে আইনি বন্ধন শেষ হয় না। সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ হলো বিয়ে বাতিল করা; যার জন্য প্রমাণ করতে হয় যে, বিয়ের শুরুতেই কোনো ধর্মীয় বা আইনি ত্রুটি ছিল এবং বিয়েটি আদতেই বৈধ ছিল না।এ কারণেই বিদেশে চলে যাওয়া কিংবা অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়াও আগের বিয়ের আইনি জটিলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিটিয়ে দেয় না। অর্থাৎ, সম্পর্ক শেষ হলেও আইনের চোখে বিয়ে ভাঙা এক বিষয় নয়। এই অদ্ভুত পার্থক্যের কারণেই ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটির বিয়ের আইন পুরো বিশ্বের চেয়ে আলাদা।   

অক্টোবর ১৫, ২০২৬

হুতি বিরোধী অভিযানে অংশ নিতে চায় ইসরায়েল, নিষেধ করেছেন সৌদি যুবরাজ

হুতি বিরোধী অভিযানে অংশ নিতে চায় ইসরায়েল, নিষেধ করেছেন সৌদি যুবরাজমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই নতুন এক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চেয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। লক্ষ্য ছিল, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীকে যুক্ত করা। কিন্তু তার সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াল সৌদি আরব।মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সৌদি আরবের এই অবস্থান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সায় দেননি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীকে এই অভিযানে যুক্ত করা হলে সৌদি জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল রিয়াদের।এখানেই শেষ নয়। ইসরায়েলের আশা ছিল, যৌথ সামরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। এমনকি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার পথও সহজ হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব জানিয়ে আসছে, ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায্য সমাধান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্ন নেই। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছেন।এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীদের হামলার আশঙ্কা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতিও সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। 

অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ভয়াবহ হামলায় বিধ্বস্ত সৌদি, ফের নিশানায় বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা!

ভয়াবহ হামলায় বিধ্বস্ত সৌদি, ফের নিশানায় বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা!আরামকো তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুরো সৌদি আরব জুড়েই নতুন মহাবিপর্যয়ের হুমকি দিল ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীরা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সৌদির জ্বালানি খাত, কোনো কিছুই তাদের নিশানা থেকে বাদ যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা। একের পর এক ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্রের এই নতুন হুঁশিয়ারি কি তবে মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে?সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরান। এখানেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়। মঙ্গলবার, এই ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি তলায়। রয়টার্সের একাধিক সূত্র বলছে, ভবনটির বেশ কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগুনের ঘটনাকে সীমিত বলে জানিয়েছে। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।এরপর বুধবার নতুন করে হুঁশিয়ারি দেয় মিত্র গোষ্ঠীরা। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখা হবে। এসব স্থাপনাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলেও দাবি করে গোষ্ঠীটি। এদিকে বুধবার রিয়াদের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, রাজধানীমুখী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইরান সমর্থিত মিত্র গোষ্ঠীর দাবি, তাদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি তেল শোধনাগার। এর আগে ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর জানানো হয়। পরপর হামলার ঘটনায় বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদিগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।সংঘাতের প্রভাব পড়ছে ইয়েমেনেও। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে আট লাখ মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। শুধু তাইজ শহরেই খাদ্য সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন ছয় লাখের বেশি মানুষ। এভাবে একদিকে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইয়েমেনে খাদ্য ও চিকিৎসাসংকট, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। 

অক্টোবর ১৫, ২০২৬

ককরোচের দুই নেতা গ্রেপ্তার, মোদিকে রাহুল গান্ধীর কড়া বার্তা

বিক্ষোভের ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের গ্রেপ্তারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে কাপুরুষোচিত কাজ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতাসীনদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা।এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার পর সেখানে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে বুধবার সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী।রাহুল গান্ধী বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষোচিত কাজ। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সুশীল সমাজের সংগঠন, শিক্ষার্থী ও ইন্ডিয়া জোটের ব্যানারে চলা বিক্ষোভগুলোর মূল দাবি একই—নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।কংগ্রেস নেতা বলেন, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোট ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন করলেও তাদের লক্ষ্য এক। তাঁর ভাষায়, এসব বিক্ষোভ মূলত নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে পরিচালিত একটি অভিন্ন আন্দোলন। যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে বাতিল করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও কংগ্রেস লড়াই করবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।রাহুল গান্ধী বলেন, ‘যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের। আমরা এটি পুনরুদ্ধার করব।’ এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিক্ষোভের অধিকার রক্ষায় তাঁর দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমর্থন জানানোর জন্য রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।টি/

অক্টোবর ১৪, ২০২৬

গাজায় এগোচ্ছে ইসরায়েলের ‘হলুদ রেখা’, বারবার ঘরছাড়া ফিলিস্তিনিরা

গাজায় ইসরায়েলের নির্ধারিত ‘হলুদ রেখা’ ক্রমেই পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসছে। এতে নতুন করে ঘরছাড়া হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসায় পরিবারগুলোকে বারবার তাঁবু সরিয়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় মানুষের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক কাটছে না।গাজার শুজাইয়া এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী মাহমুদ হারজিন এবার ষষ্ঠবারের মতো তাঁবু সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইসরায়েলের নির্ধারিত হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লক থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাঁবু গেড়েছেন তিনি। রেখাটি যত সামনে এগিয়ে আসে, বিপদ এড়াতে পরিবার নিয়ে তত পেছনে সরে যান মাহমুদ।আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবার তারা একটু সামনে এগোয়, আমরাও একটু পেছনে সরে যাই।’২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গাজার ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভাগ করতে ‘হলুদ রেখা’ নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ওই রেখার পেছনে সরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, রেখাটি ক্রমে গাজার আরও ভেতরে এগিয়ে নেওয়ায় এখন ভূখণ্ডটির প্রায় ৬৫ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এক বছর আগে নির্ধারিত চুক্তিতে এ হার ছিল ৫৩ শতাংশ।গত রোববার (১১ অক্টোবর) গাজার পূর্বাঞ্চলীয় শুজাইয়া এলাকায় হলুদ রঙের কংক্রিটের ব্লকগুলো কয়েক মিটার পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এলাকাটির আরও বেশি অংশ ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। আবারও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো।১০ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করেন মাহমুদ। গত এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে কোথায় নিরাপদে থাকা যায়, সেই খোঁজেই কাটছে তার সময়। জেইতুন, সাহাত আল-শাওয়া ও আল-মুনতাজাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁবু সরিয়ে থাকতে হয়েছে তাকে।সর্বশেষ এক জায়গায় তাঁবু গেড়ে মাত্র এক রাত ঘুমাতে পেরেছিলেন মাহমুদ। পরদিন সকালে রেখা আবার সামনে এগিয়ে আসায় বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়।তার ভাষ্য, শুধু কংক্রিটের ব্লক সরানোর সময়ই নয়, আশপাশে ড্রোন, হেলিকপ্টার, গোলাবর্ষণ ও এলোপাতাড়ি গুলির কারণে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। গোলার টুকরোও আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে রেখা এগিয়ে নেওয়ার সময় ট্যাংক, সেনাসদস্য ও ভারী গোলাবর্ষণের শব্দে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গত এক বছরে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।গাজার অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপদ এলাকায় তাঁবু খাটানোর মতো জায়গা কমে গেছে। অন্যদিকে, বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় মাহমুদের মতো অনেক পরিবারের পক্ষে নতুন আশ্রয় নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।রাতে পালানো, সকালে ফিরে আসাশুজাইয়ার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী আসমা আলীর জীবনেও একই অনিশ্চয়তা। তিন সন্তানের এই মা জানান, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে তাদের পরিবার সাত থেকে আটবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় কিছুদিন থাকার পর তারা শুজাইয়ার আল-মান্তার এলাকায় ফিরে বসবাসের চেষ্টা করেন। কিন্তু এক মাস পর আবার গোলাবর্ষণ শুরু হলে নিরাপত্তার আশঙ্কায় সেখান থেকেও সরে যেতে হয়।প্রথমে একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন তারা। পরে একটি বাসস্টপের কাছে বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু এক রাতে তীব্র গোলাবর্ষণের পর ভোরে সেখান থেকেও চলে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় স্বজনদের কাছে আশ্রয় নেন তারা।আসমা বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে পালাতে হতো, সকালে আবার ফিরে আসতাম। রাতটা কোথায় কাটানো যায়, সেই চেষ্টা করতে হতো; সকালে আবার ফিরে আসতাম।’তার কথায়, হলুদ রেখা এগিয়ে আসার রাতগুলো সবচেয়ে ভয়ংকর। রাতের শুরু থেকে ভোর পর্যন্ত গুলির শব্দ চলতে থাকে। সব সময় মনে হয়, যেকোনো মুহূর্তে আবার পালাতে হতে পারে।বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আসমার পরিবারের স্বর্ণালংকার, ঘরের জিনিসপত্র ও সন্তানদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। হারানো জিনিসের মধ্যে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য কেনা একটি বিশেষ সহায়ক বন্ধনীও ছিল। মাত্র দুই দিন আগে সেটি পেয়েছিলেন তিনি।আসমা বলেন, ‘চোখের পলকেই সব হারিয়ে গেল।’পরিবারের জন্য নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন তিনি। কিন্তু তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ গাজার দিকে চলে যাওয়াও সহজ নয়। সেখানে যাওয়ার যানবাহন পাওয়া কঠিন, আর পৌঁছানোর পর নিরাপদ জায়গা মিলবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।আসমার চাওয়া খুব সাধারণ—সন্তানদের নিয়ে এমন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে বারবার পালাতে হবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি নিরাপদ জায়গা, যেখানে সন্তানদের নিয়ে থাকতে পারব, বিশ্রাম নিতে পারব এবং নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারব।’সূত্র: আল জাজিরা

অক্টোবর ১৪, ২০২৬

মোদির বিরুদ্ধে পথে ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণেরা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড় আর তরুণদের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে তরুণদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের ফলে অনেক যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার হারাতে পারেন এবং এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।গত শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রতিবাদে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে যান ২২ বছর বয়সী অর্থনীতির শিক্ষার্থী কাশিশ রাওয়াত। পরিবারের সদস্যদেরও তিনি যাওয়ার কথা জানাননি। রাজধানীতে পৌঁছে তিনি দেখেন, বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে কাউকে মারধর করছে, কাউকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলছে। অনেকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ছুটে পালাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের ধারণ করা এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানেও দমে যাননি কাশিশ। সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায় থেকে তিনি বলেন, তারা প্রতিবাদ বন্ধ করবেন না, আবারও ফিরে এসে নিজেদের দাবি জানাবেন।ভারতে গত বছর থেকে ভোটার তালিকা ব্যাপকভাবে পর্যালোচনার কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তালিকা থেকে একাধিকবার থাকা নাম এবং ভোট দেওয়ার যোগ্য নন—এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দিতেই এই উদ্যোগ।তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এতে লাখো বা আরও বেশি যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার হারাতে পারেন। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে সুবিধা দিতে পারে।এ নিয়ে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার গনেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাদের মতে, ভোট দেওয়ার অধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে।অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রকাশ্যে এ প্রতিবাদ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তার দলের কয়েকজন নেতা বিক্ষোভকারীদের নৈরাজ্যবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রমাণ ছাড়াই তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির মদদ থাকার অভিযোগ তুলেছেন।নরেন্দ্র মোদি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তার শাসনামলে দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন মহল উদ্বেগ জানিয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিচ্ছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলিমদের, লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।তবে সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে নয়।কিন্তু অনেক তরুণের কাছে পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের ধারণা, সরকারের সমালোচনা করলেই বাধা, হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হতে পারে। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের হতাশা এখন একটি নির্দিষ্ট দাবিকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে।এর আগে চলতি বছরের গ্রীষ্মে তরুণদের আন্দোলনের চাপে মোদির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। সেই ঘটনা বিক্ষোভকারীদের মনে নতুন আশা জাগায়—রাজপথে প্রতিবাদ করেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা সম্ভব।১৯ বছর বয়সী সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মায়া রিবেইরোও ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার সঙ্গে শনিবারের (১০ অক্টোবর) প্রতিবাদে অংশ নেন দুই বন্ধু। মায়া জানান, তারা (১০ অক্টোবর) ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন, কারণ গণতন্ত্রে অংশ নেওয়াকে তারা অধিকার ও দায়িত্ব—দুটিই মনে করেন।কিন্তু তালিকা থেকে আরও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তাদের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে—ভোট দেওয়ার অধিকার কি সত্যিই সবার জন্য নিশ্চিত?মায়ার মতে, ভোট দেওয়ার প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য রাখা প্রয়োজন। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তরুণদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ এখন সম্মিলিত প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে।তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন নিজেদের অসহায় মনে হলেও আন্দোলনে অংশ নিয়ে তারা নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার শক্তি খুঁজে পেয়েছেন।প্রতিবাদ ঠেকাতে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা তরুণদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক।২১ বছর বয়সী দর্শনের শিক্ষার্থী আরিয়ান কাজানিয়া মনে করেন, ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ আসলে ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি তরুণদের বৃহত্তর হতাশারই প্রতিফলন। তার প্রশ্ন, যখন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় সমাবেশে বাধা দিতে পারে বা বিক্ষোভকারীদের আটক করতে পারে, তখন তারা নিজেদের মতপ্রকাশের অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করবেন?আরিয়ানের ভাষ্য, রাজধানীতে কী ঘটছে, তা জানতে বিভিন্ন শহরের মানুষ চেষ্টা করছেন এবং আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু একই সময়ে তাঁদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টাও চলছে।এই আন্দোলনের অংশ নেওয়া সবাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। অনেকেই জানিয়েছেন, ভোটাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তাদের এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।মোদির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ গড়ে তোলা সহজ নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির রয়েছে শক্তিশালী নির্বাচনী সংগঠন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো অতীতের অসন্তোষকে স্থায়ী জাতীয় আন্দোলনে রূপ দিতে হিমশিম খেয়েছে।তরুণদের বর্তমান আন্দোলনও এখনো সুসংগঠিত বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করাকেও তারা গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখছেন।কাশিশ রাওয়াতের পরিবারেও রাজনীতি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। তার ধারণা, পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মোদির দলের প্রতি সহানুভূতিশীল টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের প্রভাব রয়েছে। মতের অমিলের কারণে কখনো কখনো আত্মীয়দের সঙ্গে কথাবার্তাও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তবু তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন কাশিশ।মায়া রিবেইরোর কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তরুণেরা নিজেদের ক্ষোভকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে রূপ দিতে পারবেন কি না।তার বিশ্বাস, সাম্প্রতিক প্রতিবাদ তরুণদের মনে গণতন্ত্রের প্রতি নতুন করে আস্থা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজপথের এই ক্ষোভ কতটা স্থায়ী রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের সমাধান কীভাবে হয়।সূত্র: এপি 

অক্টোবর ১৩, ২০২৬

আবারো রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এর কিছুক্ষণ আগে তাদের মোবাইল ফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও ড্রোন পাঠানো হয়েছে।সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।গত শনিবার হুথিদের হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এসব হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে।সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের সতর্ক করেছেন। তার ভাষ্য, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের কর্মীদের এসব এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, এসব স্থাপনা এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।এইদিকে বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এপিকে এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে পথ পরিষ্কার করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যার কিছু বিমানবন্দরে আঘাত হানে।কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এতে সৌদি আরবের ব্যবহৃত প্যাট্রিয়টসহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য সেগুলোকে প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, সেটিও তদন্তের অংশ। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬

রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক দফায় ডিজেল সরবরাহ করবে মস্কো। তবে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়ে আইন স্বাক্ষর করার পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দফায় তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল দেবে রাশিয়া। এ ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকও দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া বক্তব্যে সরবরাহের পরিমাণ নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ প্রতি মাসে ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে মার্কিন ব্যাংকে থাকা রাশিয়ার সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।চুক্তিটির বিরোধিতা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা। রোববার সাতজন সিনেটর যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন, রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করছে। তাঁরা ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে চারজন রিপাবলিকান ও তিনজন ডেমোক্র্যাট রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় পুতিনকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ২০২২ সালে কংগ্রেস রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, জ্বালানির দাম কমাতে বিদ্যমান মার্কিন আইনি কাঠামোর মধ্যেই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তিকে পুতিনের জন্য ‘একটি পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংসহ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতাও চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিশেষ করে কৃষক, পশুপালক ও ট্রাকচালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন—এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলার, যা এর আগে ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় রাশিয়ার প্রতিশ্রুত সরবরাহে বাজারে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। প্রথম দফার তিন লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক চাহিদার তুলনায় সীমিত পরিমাণ।এদিকে, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে কি না, তা নির্ধারিত হবে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনে তাঁর দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে ডিজেলের দাম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করলেও এর বাস্তব সুফল নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রোববার ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’তে পৌঁছেছে। জেলেনস্কি এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং এই চুক্তি যুদ্ধ ও জ্বালানির বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।টি/

অক্টোবর ১২, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo