নীল-সাদা জার্সিতে শেষ মেসি অধ্যায়
31 আগস্ট 2026, বিকাল 10:13
ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর নেওয়া এই সিদ্ধান্ত তার নিজের জন্যও অত্যন্ত কষ্টের বলে জানিয়েছেন মেসি। তবে মনে করছেন, জাতীয় দলের জার্সিতে তার অধ্যায় এবার শেষ করার সময় এসেছে।প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিচারণ করে মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রতিবারই নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়া এবং ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। জাতীয় দলের হয়ে খেলার ভালোবাসা কখনো শেষ হবে না জানিয়ে মেসি বলেন, এখন তার দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা করে দেওয়ার সময় এসেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।বিদায়ী বার্তায় সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দুই দশকের পথচলায় পাওয়া ভালোবাসা, সমর্থন ও মাঠভরা গর্জনের কথা স্মরণ করে মেসি জানিয়েছেন, গ্যালারি থেকে ভেসে আসা সমর্থকদের কণ্ঠ তিনি ভীষণ মিস করবেন। পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি ও আবেগঘন মুহূর্ত সারাজীবন তার হৃদয়ে থেকে যাবে।মেসির নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি, যদিও স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ছুঁতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসি জানিয়েছেন, সেই ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই, তিনি অবসরের চিঠি লিখেছিলেন। তবে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রকাশ করেননি। পরবর্তীতে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আরও দৃঢ় হন তিনি।জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ফুটবলকে এখনই বিদায় বলছেন না মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর মাঠে নামবেন না এই কিংবদন্তি—এটাই বদলে দিচ্ছে ফুটবলের এক আবেগঘন অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা। বিদায়ী বার্তার শেষদিকে নিজের দেশকে ভালোবাসায় ভাসিয়ে মেসি বলেছেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি তাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দিয়েছেন। এরপর রেখে গেছেন হৃদয়ছোঁয়া সেই আহ্বান—‘চলো, আর্জেন্টিনা।’/টি