
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আজ সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৬.৫০ ডলার বা ১৮.২ শতাংশ
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে। কাতারও ইতিমধ্যে তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমিয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত বসরা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের তেলের মজুদাগারগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দৈনিক ১.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নামিয়ে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও দ্রুত উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে। বহুজাতিক আর্থিক সেবা সংস্থা এএনজের সিনিয়র কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ড্যানিয়েল হাইনস জানিয়েছেন, উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে শুধু সরবরাহই কমে যায় না, যুদ্ধ শেষে উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতেও দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সংঘাতের মধ্যেই ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ পরিবর্তন তেহরানের কট্টরপন্থী অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এবং সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।