
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারতের মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। শনিবার (১৮ জুলাই) অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে দেশটির প্রথম বেসরকারি বাণিজ্যিক কক্ষপথীয় রকেট ‘বিক্রম-১’। এই সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বেসরকারি উদ্যোগে কক্ষপথে রকেট পাঠানো দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে জায়গা করে নিল ভারত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, হায়দরাবাদভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস তৈরি করেছে ‘বিক্রম-১’। ক্ষুদ্র কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) কক্ষপথে স্থাপনের জন্য তৈরি ২৪ মিটার দীর্ঘ এই রকেটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক ও নিজস্ব প্রযুক্তি।
রকেটটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট দিয়ে তৈরি মূল কাঠামো। প্রচলিত ইস্পাতের পরিবর্তে ব্যবহৃত এই
এছাড়া ভারতের মহাকাশ গবেষণায় প্রথমবারের মতো ‘বিক্রম-১’-এর অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউলে সম্পূর্ণ থ্রিডি প্রিন্টেড তরল জ্বালানিচালিত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে।
রকেটটি একাধিক পেলোড বহন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘এমব্রেস’ নামের একটি পরীক্ষামূলক মিশন, যেখানে ভবিষ্যতে মহাকাশে জমে থাকা স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনা পরিষ্কারে রোবোটিক আর্ম প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
ঐতিহাসিক এই অভিযানে প্রতীকী কিছু বিশেষ সামগ্রীও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থকদের পাঠানো শত শত শুভেচ্ছাবার্তাসংবলিত একটি বিশেষ কার্ড, যাতে লেখা ছিল ‘বন্দে মাতরম্’। এছাড়া একটি ক্ষুদ্র স্বর্ণের রকেটের প্রতিকৃতির ভেতরে ভারতের তিন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী—ড. বিক্রম সারাভাই, স্যার সি. ভি. রমন এবং ড. এ. পি. জে. আবদুল কালামের ক্ষুদ্র ভাস্কর্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ‘কসমিক ব্লুম’ নামের গবেষণাগারে তৈরি একটি কৃত্রিম হীরাও শৈল্পিক পেলোড হিসেবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ২০২২ সালে ‘বিক্রম-এস’ নামের একটি সাব-অরবিটাল রকেটের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ‘বিক্রম-১’-এর মাধ্যমে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাত নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাল।
/টি