
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পাল্টা সামরিক অভিযান চালাবে না বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, অতীতে আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তার ভাষ্য, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এরপর শনিবার ও রোববার নতুন কোনো মার্কিন
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে—হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে।’ তিনি জানান, এই বার্তা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, আলোচনার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না। তাদের মতে, এই বিরতি কৌশলগত হতে পারে, তবে এটিকে প্রকৃত যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যদিও আপাতত উভয় পক্ষ হামলা থেকে বিরত রয়েছে, তবু পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।’
/টি