
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে পাকস্থলী সবচেয়ে সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। এ সময় কী খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে সারাদিনের হজমপ্রক্রিয়া, শক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে কিছু খাবার খেলে অ্যাসিডিটি, গ্যাস, বুকজ্বালা, হজমের সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
রাতভর উপোস থাকার পর সকালে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই দিনের শুরুতে ভারী, অতিরিক্ত মসলাদার বা অ্যাসিডিক খাবার খেলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে প্রভাব ফেলে। ফলে অস্বস্তি, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে সকালে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন
অনেকেই সকালে স্বাস্থ্যকর মনে করে ফলের জুস পান করেন। তবে খালি পেটে ফলের জুস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে এবং অগ্ন্যাশয় ও লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দই পুষ্টিকর হলেও খালি পেটে খাওয়া উপযুক্ত নয়। কারণ, এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর অ্যাসিডে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ফলে প্রত্যাশিত উপকার পাওয়া যায় না। দিনের শুরুতে চা বা কফি পান করাও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। খালি পেটে ক্যাফেইন শরীরে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে, যা বুকজ্বালা, গ্যাস ও পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মসলাদার খাবার, সফট ড্রিংকস বা সোডা এবং টমেটোর মতো অ্যাসিডিক খাবার খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক ও হজমজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে হালকা গরম পানি পান করা সবচেয়ে উপকারী। এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখে, হজমপ্রক্রিয়া সচল করে এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের হতে সহায়তা করে। এ ছাড়া খেজুর, সারারাত ভিজিয়ে রাখা বাদাম, মৌসুমি ফল, ওটস কিংবা হালকা সেদ্ধ খাবার দিয়ে সকালের খাবার শুরু করা যেতে পারে। এসব খাবার সহজে হজম হয়, দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
সকালের খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, বরং শরীরকে নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত করার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়। খালি পেটে কোন খাবার খাওয়া উচিত আর কোনটি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন—এ বিষয়ে সচেতন থাকলে অনেক সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে দিন শুরু করলে শরীর থাকবে সুস্থ, মন থাকবে সতেজ।
সূত্র: এনডিটিভি
/টি