
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। একসময় এটি বয়স্কদের রোগ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও রোগটির বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন এবং পারিবারিক ইতিহাস ডায়াবেটিস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে বিশ্বে প্রায় ২০ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮৩ কোটিতে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের বড় অংশই টাইপ–২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে শরীর রক্তে থাকা গ্লুকোজ বা শর্করাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোন গ্লুকোজকে কোষে পৌঁছে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইনসুলিন
দীর্ঘদিন রক্তে অতিরিক্ত শর্করা থাকলে হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, চোখের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি এবং পায়ের জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ডায়াবেটিসের প্রধান দুটি দীর্ঘমেয়াদি ধরন হলো টাইপ–১ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিস। এছাড়া প্রিডায়াবেটিস এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিসও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রিডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলেও তা ডায়াবেটিস নির্ণয়ের পর্যায়ে পৌঁছায় না। এ সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে টাইপ–২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস গর্ভাবস্থায় দেখা দেয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর সেরে যায়। তবে ভবিষ্যতে টাইপ–২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বিশেষজ্ঞরা জানান, টাইপ–২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন রোগটি সম্পর্কে জানতে পারেন না।
যাদের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা রয়েছে, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, বয়স বেশি, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন অথবা আগে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছিল—তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা অন্ধত্ব, স্নায়ুর ক্ষতি, পায়ে ঘা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গ কেটে ফেলার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা, শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলা, ধূমপান বর্জন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাপনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ এবং টাইপ–১ ও কিছু টাইপ–২ রোগীর ক্ষেত্রে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চোখ, কিডনি ও পায়ের পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়েও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব। শরীরে ডায়াবেটিসের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্র:বিশ্ব স্বাস্থ্য কেন্দ্র
/টি