
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে সিঙ্গারা। এক কাপ গরম চায়ের সঙ্গে মুচমুচে সিঙ্গারা যেন বিকেলের আড্ডার অন্যতম অনুষঙ্গ। শহর থেকে গ্রাম, রাস্তার পাশের ছোট দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ—সবখানেই সমান জনপ্রিয় এই মুখরোচক নাস্তা। সহজলভ্যতা, সুস্বাদু পুর এবং মুচমুচে খোলসের কারণে এর জনপ্রিয়তা আজও অটুট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গারা শুধু একটি খাবার নয়; এটি বাঙালির আড্ডা, স্মৃতি ও আন্তরিকতারও প্রতীক। সময়ের সঙ্গে এর স্বাদ ও বৈচিত্র্য বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী আলুর পুরের পাশাপাশি এখন মুরগির মাংস, গরুর কিমা, কলিজা, বিভিন্ন সবজি, পনির, ডাল ও মাশরুমের পুর দিয়েও তৈরি হচ্ছে সিঙ্গারা। স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য অনেক বেকারিতে বেকড সিঙ্গারার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সিঙ্গারা
ডো তৈরির জন্য
ময়দা ২ কাপ
তেল ৪ টেবিল চামচ
কালোজিরা ১ চা চামচ
লবণ স্বাদমতো
পানি পরিমাণমতো
পুর তৈরির জন্য
সেদ্ধ আলু ৪টি
পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ
আদা-রসুন বাটা ১ চা চামচ
কাঁচামরিচ কুচি স্বাদমতো
হলুদ গুঁড়ো আধা চা চামচ
জিরা ও ধনে গুঁড়ো ১ চা চামচ
পাঁচফোড়ন আধা চা চামচ
লবণ স্বাদমতো
তেল প্রয়োজনমতো
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে ময়দা, তেল, কালোজিরা ও লবণ মিশিয়ে শক্ত ডো তৈরি করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে। অন্যদিকে তেলে পাঁচফোড়ন ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ ভেজে আদা-রসুন ও মসলা কষিয়ে সেদ্ধ আলু মিশিয়ে পুর তৈরি করতে হবে।
এরপর ডো ছোট ছোট ভাগ করে বেলে কেটে কোণ আকৃতি তৈরি করে পুর ভরে মুখ ভালোভাবে আটকে দিতে হবে। মাঝারি থেকে মৃদু আঁচে ডুবো তেলে ধীরে ধীরে সোনালি রং হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিলেই তৈরি হবে মুচমুচে সিঙ্গারা।
পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা
সিঙ্গারা কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস হলেও এটি সাধারণত ডুবো তেলে ভাজা হয়। তাই পুষ্টিবিদরা পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন। ঘরে পরিষ্কার তেলে তৈরি সিঙ্গারা তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত। পুরে সবজি বা ডাল যোগ করলে এর পুষ্টিমান আরও বাড়ে।
সিঙ্গারা বানানোর ৫টি টিপস
খামি শক্ত করে মাখুন।
পুর ঠান্ডা করে ভরুন।
মুখ ভালোভাবে আটকে দিন।
মাঝারি আঁচে ধীরে ভাজুন।
একই তেল বারবার ব্যবহার করবেন না।
সময়ের পরিবর্তনে নানান ধরনের নাস্তা জনপ্রিয় হলেও সিঙ্গারার আবেদন এতটুকুও কমেনি। বরং আধুনিক স্বাদের সংযোজনের মধ্য দিয়েও ঐতিহ্য ধরে রেখে বাঙালির পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানেই রয়েছে এই ত্রিভুজাকৃতির নাস্তা। অফিসের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের টিফিন, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা উৎসব—সব আয়োজনেই সিঙ্গারার উপস্থিতি আজও সমানভাবে চোখে পড়ে।