
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ভারতীয় মাটিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ বৈঠকটিকে ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন সূচনা হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও বিরোধ এখনো কাটেনি।
দ্য ডিপ্লোমেটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্যগুলোর সমাধান হয়নি। বিশেষ করে সীমান্ত বিরোধ, লাদাখ ইস্যুতে চীনের অবস্থান, পাকিস্তানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রমাণ মেলেনি। ফলে শীর্ষ পর্যায়ের এই আলোচনাকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, যা পারস্পরিক অবস্থানের পার্থক্যকে সামনে এনেছে। চীনের বিবৃতিতে তিব্বত ও তাইওয়ানের প্রসঙ্গ থাকলেও ভারতের বিবৃতিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে, বেইজিং ভারতকে ‘অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করলেও নয়াদিল্লি একই পরিভাষা ব্যবহারে সতর্ক থেকেছে। এসব বিষয় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে নয়াদিল্লির চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ভারত বরাবরই নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। নতুন করে সীমান্ত সংঘাত এড়ানো ভারতের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তবে গালওয়ান সংঘাতের পর থেকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থবিরতা রয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধারের পথ এখনো দীর্ঘ।
সব মিলিয়ে, মোদি-শি বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান, পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা এবং ভারতের সার্বভৌমত্বসংক্রান্ত উদ্বেগের কার্যকর নিষ্পত্তি ছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা সীমিত। তাই সাম্প্রতিক বৈঠককে সম্পর্কের চূড়ান্ত মোড় পরিবর্তন না বলে, সংলাপের পথ খোলা রাখার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখাই যুক্তিযুক্ত।
টি/