
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ১১০ হামলা সৌদির!
ইয়েমেনের আকাশ জুড়ে এখন শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন। আগাম সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ যেন আকাশ থেকে আগুনের বৃষ্টি শুরু হলো। যুদ্ধবিমানের বিকট গর্জন আর তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পুরো দেশ। সাধারণ মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশের ঘরবাড়ি ধূলিসাৎ হতে শুরু করে। শান্ত একটি রাত রূপ নেয় চরম আতঙ্কে।
লড়াইটা কতটা মারাত্মক রূপ নিয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির বক্তব্যে। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের ওপর ধেয়ে এসেছে ১১০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। আর এই সর্বাত্মক আক্রমণের নেপথ্যে রয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সৌদির ঘাঁটি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে অত্যাধুনিক F-15 এবং টাইফুন যুদ্ধবিমান। শুধু তাই নয়, আকাশপথের পাশাপাশি সৌদির নাজরান সীমান্ত থেকেও ছোঁড়া হয় দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
সৌদি জোটের এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী সানা। তবে সানা ছাড়াও হোদেইদা, তায়েজ, আমরান, সাদা এবং মারিব প্রদেশেও চালানো হয়েছে তীব্র বোমাবর্ষণ। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, নিমিষেই ধসে পড়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ইরান সমর্থিত মিত্র গোষ্ঠীর তথ্যমতে, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে নারী ও শিশুসহ ৩০ জনেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের এই রূপ ধারণ করার পেছনে লুকিয়ে আছে বিগত কয়েকদিনের প্রতিশোধের আগুন। কিছুদিন আগেই মিত্র গোষ্ঠীরা সৌদির বুক কাঁপিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০ বারেরও বেশি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যাতে ১৯ জন নিহত হন। এমনকি আরামকো তেল শোধনাগারেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তারা। সৌদির সেই চরম ক্ষোভ আর ক্ষয়ক্ষতির পাল্টা জবাব দিতেই ইয়েমেনের ওপর এই ১১০টি বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মিত্র গোষ্ঠীদের দমাতে এবং সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে এসেছে সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশ মিশর । ফলে দুই পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী জেদ ইয়েমেনকে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর এই লড়াই আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যকে কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।