
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে একটি প্রশ্ন সাধারণভাবেই উঁকি দেয়—ঋণ থাকা অবস্থায় কোরবানি দেওয়া যাবে কি না, নাকি আগে ঋণ শোধ করতে হবে? ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। ফিকাহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা জানিয়েছেন, ঋণ থাকা এবং কোরবানি হওয়া বা না হওয়া মূলত ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা ও নিসাব পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে কারও ওপর যদি
তবে ঋণ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তির কাছে ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব এবং তখন কোরবানি না করলে তা গুনাহের কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। আলেমরা স্পষ্ট করেছেন যে, ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কেউ কোরবানি করলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে; কারণ ঋণ পরিশোধ ও কোরবানি দুটি ভিন্ন বিধান এবং একটির জন্য অন্যটি বাতিল হয় না। তবে সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নফল কোরবানির উদ্দেশ্যে নতুন করে ঋণ করাকে ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার পর যদি তাৎক্ষণিকভাবে হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকে, তবে তিনি প্রয়োজনে ঋণ করে হলেও কোরবানি আদায় করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সেই ঋণ পরিশোধ করে দেবেন। যদি কোনো কারণে কোরবানির নির্ধারিত সময় পার হয়ে যায় এবং ওয়াজিব কোরবানি আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে এর কাজা হিসেবে একটি মাঝারি মানের ছাগলের সমপরিমাণ অর্থ সদকা করার বিধান রয়েছে। উল্লেখ্য, সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ, ব্যবসার পণ্য ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি বা আসবাবপত্র থাকলে তাকে নিসাব পরিমাণ সম্পদ ধরা হয়।
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ওয়াজিব কোরবানি না করাকে অত্যন্ত কঠিন গুনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কঠোর বাণী রয়েছে—"সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কোরবানি করে না, সে যেন অবশ্যই আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।" তাই আলেমদের পরামর্শ, কোরবানি যেহেতু শুধু পশু জবাই নয়, বরং ত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান ইবাদত, সেহেতু কোরবানি আদায়ের আগে প্রত্যেকেরই নিজের আর্থিক সক্ষমতা, ঋণের প্রকৃত অবস্থা এবং পারিবারিক প্রয়োজন সঠিকভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
/টিএ