
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
তীব্র গরমে রাতভর এপাশ-ওপাশ করেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। গরমে ঘেমে শরীর অস্বস্তিকর হয়ে ওঠা এবং মধ্যরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনিদ্রার পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া। এই সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে হালকা পোশাক পরা বা একেবারে কাপড়ের অনুপস্থিতিতে ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা, যা শরীরকে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে পারে গভীর ঘুম।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমানোর সময় মানবদেহের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়, যা শরীরকে গভীর ঘুমে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। তবে মোটা কাপড়ের পোশাক, ভারী চাদর বা ঘরের গুমোট পরিবেশের
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে খুব হালকা পোশাকে বা কাপড় ছাড়া ঘুমালে শরীর সহজে ও দ্রুত ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায়। এর ফলে ঘুম অত্যন্ত গভীর হয়, যা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। অনেক গবেষক মনে করেন, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমের কারণে পরদিন শরীরে দ্বিগুণ শক্তি পাওয়া যায় এবং সারাদিন মনও ফুরফুরে থাকে।
রাতে ঢিলেঢালা বা পোশাক ছাড়া ঘুমানোর বিষয়টি পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাক শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহিত দম্পতিরা রাতে হালকা পোশাকে বা কাপড়ের ব্যবহার ছাড়া ঘুমালে তাদের মধ্যকার মানসিক দূরত্ব কমে। পরস্পরের ত্বকের স্পর্শে শরীরে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি ও হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, যা দাম্পত্য সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে সাহায্য করে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভরশীল।
একটি স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য ঘরের তাপমাত্রা সহনীয় রাখা, ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং সুতির হালকা বিছানার চাদর ব্যবহার করা জরুরি। যারা একদম পোশাক ছাড়া ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারা চাইলে অত্যন্ত হালকা ও ঢিলেঢালা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেউ যদি কাপড় ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করেন, তবে ত্বকের সুরক্ষায় অবশ্যই বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
সূত্র: সিএনএন
/টিএ