
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগের ঝুঁকি। উদ্বেগের বিষয় হলো, শুধু বয়স্ক নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রযুক্তিনির্ভর দৈনন্দিন অভ্যাস এ পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। তবে সময়মতো সচেতন হলে এবং জীবনধারায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। কারণ বাতাস, পানি ও খাবারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছসহ ওমেগা-৩
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত সূর্যের আলোতে থাকা শরীরের জন্য উপকারী। বর্তমানে অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতর বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাটান। অথচ সূর্যালোক শরীরের বিভিন্ন জৈবিক কার্যক্রম সক্রিয় করে এবং ধমনিতে প্ল্যাক জমা কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং বিপাকক্রিয়া সচল রাখে। ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা হালকা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরকে সক্রিয় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপও হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মানসিক চাপ কমাতে পরিবারকে সময় দেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ও স্বাস্থ্যকর বিনোদনের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া ঘরের আর্দ্রতা, ছত্রাক ও জীবাণুমুক্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে শরীরের ভেতরের নানা ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। প্রদাহ, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্যান্য জটিলতা দ্রুত ধরা পড়লে চিকিৎসাও সহজ হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারে ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সচেতনতা ও ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।
/টিএ