
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
রাজধানীতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আভাস, হতে পারে ভয়াবহ ক্ষতি!
যেকোনো মুহূর্তেই বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে পারে প্রিয় রাজধানী ঢাকা। ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও এর আশপাশের অঞ্চলে বড় ভূমিকম্পের একটি ঐতিহাসিক চক্র বা ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ রয়েছে। সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ বছর পরপর এই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূ-কম্পন আঘাত হানে এবং বর্তমানে সেই পুনরাবৃত্তির সময়কাল প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এর অর্থ হলো, যেকোনো সময় রাজধানী ঢাকায় ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
সুদূর ভেনিজুয়েলায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে টেকটোনিক প্লেটের এই সক্রিয়তা ঢাকার জন্য বড় বিপদের সংকেত।
এই আশঙ্কার পেছনে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ মূলত তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত 'ডাউকি ফল্ট' এবং ঢাকার কাছের 'মধুপুর ফল্ট' অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অতীতে নরসিংদী ও এর আশপাশে হওয়া মাঝারি মাত্রার কম্পনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, তখনো রাজধানীর বেশ কিছু বহুতল ভবন হেলে পড়েছিল এবং ফাটল দেখা দিয়েছিল। ওই সামান্য কম্পনেই যেখানে ভবন হেলে পড়ে, সেখানে মাটির নিচে জমে থাকা বিশাল শক্তি যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে রূপ নেয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি হবে কল্পনাতীত।
সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো ঢাকা শহরের ভৌগোলিক ও কাঠামোগত দুর্বলতা। রাজধানীর বেশির ভাগ বহুতল ভবনই গড়ে উঠেছে খাল, নদী বা জলাশয় ভরাট করে নরম মাটির ওপর। যথাযথ পাইলিং ও বিল্ডিং কোড না মেনে জলাশয় ভরাটের এই জমিতে ইমারত নির্মাণ করায় এগুলো ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় কোনো কম্পনে মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং ধূলিসাৎ হতে পারে আরও দেড় লক্ষাধিক স্থাপনা। তার ওপর পুরান ঢাকাসহ শহরের সংকীর্ণ রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভূমিকম্প ঠেকানো না গেলেও এখনই জলাশয় ভরাট বন্ধ এবং শত ভাগ ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই আসন্ন মৃত্যুর ফাঁদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
এফ/এইচ