
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনীর দাবি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতেও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে তারা। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশ দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বেশ কয়েকটি হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন এবং সর্বশেষ হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক অভিযানের তৃতীয় ধাপ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংসের দাবি করেছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে কুয়েতে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদ গুদাম ও রাডার স্থাপনা এবং বাহরাইনে যোগাযোগ ও রাডার স্থাপনায় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার কথাও জানানো হয়েছে। জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলারও দাবি করেছে ইরান।
হামলার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে। একইভাবে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে ইরানের এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।