
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পাশের কক্ষ থেকে ভেসে আসা ফিসফাস কিংবা কোনো বৈঠকে অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যের ব্যক্তিগত কথা কানে চলে আসা—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় অনেককেই। ইচ্ছাকৃতভাবে কারও গোপন কথা শোনা ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— وَلَا تَجَسَّسُوا — ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজরাত: ১২)। হাদিসেও আড়ি পেতে অন্যের কথা শোনার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— مَنْ استَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ، وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ — ‘যে ব্যক্তি কোনো এক দলের কথা কান পেতে শোনে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে, কেয়ামতের দিন তার কানে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’
তবে কোনো ব্যক্তির গোপন কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে চলে এলে ইসলাম সংযম ও সতর্কতার শিক্ষা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভব হলে সেখান থেকে সরে যাওয়া উচিত। শারীরিকভাবে সরে যাওয়া সম্ভব না হলে নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে পরবর্তী কথাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে শোনা না হয়। পাশাপাশি কথার কোনো অংশ কানে চলে এলে সেটিকে আমানত হিসেবে গোপন রাখার নির্দেশনাও রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌ — ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং মুখ ঘুরায় (এদিক-সেদিক তাকায়), তখন তা আমানত।’ (আবু দাউদ: ৪৮৬৮)।
ইসলামি শিষ্টাচারে অনিচ্ছাকৃতভাবে শোনা কথাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত কৌতূহল দেখানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কথার সামান্য অংশ শুনে পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা করা, পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া কিংবা অন্যের কাছে তা ছড়িয়ে দেওয়া গোপনীয়তার মর্যাদা নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা, পারিবারিক বিষয় বা এমন কোনো তথ্য যা প্রকাশ পেলে তিনি বিব্রত হতে পারেন—এসব বিষয় প্রচার না করে গোপন রাখাই ইসলামের শিক্ষা।
অন্যের গোপন তথ্য জেনে যাওয়ার পর সেটি ব্যবহার করে তাকে অপমান, খোঁটা বা হেয় করাও অনুচিত। বরং মানুষের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ — ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (মুসলিম: ২৬৯৯)। ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য জেনে গেলে তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরবর্তীতে বিব্রত করা বা সামাজিকভাবে ছোট করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
তবে কোনো গোপন কথার মধ্যে যদি কারও জীবনহানি, গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি কিংবা মারাত্মক অপরাধের পূর্বপরিকল্পনার মতো বিষয় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, তখন বিষয়টি সাধারণ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পর্যায়ে থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জানানো প্রয়োজন হতে পারে। কারণ অন্যের কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে চলে আসা সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; কিন্তু তা শোনার পর কীভাবে আচরণ করা হবে, সেটিই ব্যক্তির সংযম, আমানতদারি ও নৈতিকতার পরিচয় বহন করে।
/টি