
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সংসারে শান্তি, স্বস্তি ও কল্যাণ চান সবাই। তবে শুধু অর্থ-সম্পদ বা বাহ্যিক স্বাচ্ছন্দ্যই পারিবারিক সুখের নিশ্চয়তা দেয় না। ইসলামের দৃষ্টিতে বরকত হলো—কোনো নিয়ামতে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কল্যাণ ও স্থায়িত্ব আসা, যাতে অল্পের মধ্যেও প্রশান্তি ও উপকার পাওয়া যায়। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইমান ও তাকওয়া অবলম্বন, নামাজ-কোরআনের চর্চা এবং হালাল জীবনযাপন পরিবারে বরকত ও শান্তির অন্যতম মাধ্যম।
পরিবারে বরকতের প্রধান ভিত্তি ইমান ও তাকওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ইমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য আকাশ ও জমিনের বরকতসমূহ খুলে দিতাম।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬)। তাই পরিবারে আল্লাহভীতি, ইমানি পরিবেশ ও ইসলামী জীবনচর্চা গড়ে তোলা জরুরি।
দিনের শুরুটাও হতে পারে বরকতের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের ভোরবেলায় বরকতের জন্য দোয়া করেছেন। সাখর ইবনে গামিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের ভোরবেলায় বরকত দান করুন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; জামে তিরমিজি, হাদিস: ১২১২)। তাই অযথা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে ফজরের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও প্রয়োজনীয় কাজ দিয়ে দিন শুরু করার অভ্যাস করা যেতে পারে।
সংসারে বরকতের জন্য উপার্জনের পথ হালাল হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হারাম উপার্জনে বাহ্যিকভাবে সম্পদ বাড়লেও তাতে প্রকৃত কল্যাণ থাকে না। হালাল উপার্জনের পাশাপাশি সদকা করা এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)। একই সঙ্গে ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া, খাবার শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলা এবং সম্ভব হলে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাসও গড়ে তোলা যেতে পারে। হাদিসে একসঙ্গে খাওয়া ও আল্লাহর নাম নেওয়ার মধ্যে বরকতের কথা উল্লেখ রয়েছে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাও ইসলামে বরকতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত করা হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৭)। তাই আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সম্পর্ক নষ্ট না করার চেষ্টা করা উচিত। সব মিলিয়ে সংসারে বরকত পেতে শুধু বেশি অর্থের পেছনে ছুটলেই হবে না; ইমান-তাকওয়া, নামাজ-কোরআন, হালাল উপার্জন, সদকা, পারিবারিক সৌহার্দ্য ও আত্মীয়তার সম্পর্কের মাধ্যমে ঘরে আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
/টি