
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শত শত পর্যটকসহ বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রবল পানির স্রোতে সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চল থেকে নেমে আসা প্রবল পানির ঢলে ভোতে কোশি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত করে।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যার পর রসুয়া জেলায় অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি
এদিকে দুর্যোগকবলিত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর আরও সাত সদস্যের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমালয় অঞ্চলে ভূমিধস, বরফধস অথবা ভূমিকম্পজনিত কোনো ঘটনার কারণে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে জমে থাকা বিপুল পানি হঠাৎ নেমে আসায় এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষজ্ঞের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, লেন্দে নদীর গতিপথ বরফধসের কারণে আটকে যাওয়ার পর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে ভোতে কোশি নদীতে প্রবল আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। চীনের সীমান্তবর্তী তিব্বতের গিরং ও শিগাতসে অঞ্চলেও ভূমিধস ও বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে নেপাল সেনাবাহিনী। হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করে নিখোঁজদের সন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এমআর//