
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপসহ নানা কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে নারী ও পুরুষের শরীরে ডায়াবেটিসের প্রভাব সব সময় এক রকম হয় না। হরমোন, শারীরিক গঠন, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং হৃদরোগের ঝুঁকির পার্থক্যের কারণে রোগটির প্রভাব ও জটিলতাতেও ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের কারণে হৃদযন্ত্র ও কিডনিতে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের সমস্যা ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করাই যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরিমাপের পাশাপাশি কিডনির কার্যকারিতা এবং
নারীদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন রোগ নিয়ন্ত্রণের চাপ থেকে উদ্বেগ, মানসিক ক্লান্তি কিংবা বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে। আবার অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে নিয়ম মেনে খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম বা ওষুধ সেবন করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বয়ঃসন্ধি, ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের মতো হরমোনগত পরিবর্তন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষ ও নারী উভয়ের শরীরেই হরমোন ও বিপাকীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রার দিকে নজর দিলেই হবে না। ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কিডনি, চোখ ও পায়ের স্বাস্থ্যের বিষয়েও নিয়মিত খেয়াল রাখা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্লুকোজ ও HbA1c-এর মাত্রাও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
ডায়াবেটিসে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বুকে ব্যথা বা চাপ, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টির পরিবর্তন, শরীরের কোনো ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া এবং শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা যায়।
/টি