
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
লবণ শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে একাধিক গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিয়মিত বেশি লবণ গ্রহণ করলে শুধু উচ্চ রক্তচাপই নয়, হৃদ্যন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং রক্তনালির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা স্নায়ুর কার্যক্রম, পেশির সংকোচন এবং শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তারা জানান, অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে শরীর সোডিয়ামের ভারসাম্য রক্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের পর অনেকেরই অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভূত হয়। পাশাপাশি শরীরে পানি জমে যাওয়ার কারণে হাত, পা, গোড়ালি কিংবা মুখ কিছুটা ফুলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সমস্যা বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এছাড়া অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের পর মাথাব্যথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়, যা প্রায় এক চা-চামচ লবণের সমান। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও কম লবণ খাওয়া উচিত।
লবণ গ্রহণ কমাতে বিশেষজ্ঞরা প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগুণের লেবেল দেখে সোডিয়ামের পরিমাণ যাচাই করা, টাটকা ও ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত লবণযুক্ত স্যুপ, চিপস, সস, আচার, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। রান্নায় স্বাদ বাড়াতে লেবুর রস, আদা, রসুন, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা ও বিভিন্ন মসলা ব্যবহারের পাশাপাশি খাবার না চেখেই অতিরিক্ত লবণ যোগ করার অভ্যাস ত্যাগেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে নোনতা খাবার খেলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত লবণ থাকলে তা পরিবর্তন করা জরুরি। কারণ ছোট এই পরিবর্তনই ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ ও কিডনির মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: মেথোডিস্ট