
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ির প্রতি বাঙালির ভালোবাসা যেন এক চিরন্তন ঐতিহ্য। কারও কাছে বর্ষার আনন্দ মানেই ইলিশ-খিচুড়ির আয়োজন, আবার কেউ উপভোগ করেন ধোঁয়া ওঠা গরম খিচুড়ির সঙ্গে অলস বিকেল। বৃষ্টি হোক বা না হোক, খিচুড়ি সব সময়ই জনপ্রিয় খাবার। তবে মেঘলা আকাশ আর ঝুম বৃষ্টির আবহে এই খাবারের আবেদন যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি যেমন মনকে প্রশান্ত করে, তেমনি অনেকের মনেও জাগিয়ে তোলে খিচুড়ি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা। বাইরে বজ্রসহ বৃষ্টি আর ঘরে গরম খিচুড়ির সুবাস— এমন দৃশ্য বাঙালির পারিবারিক সংস্কৃতিরই একটি পরিচিত ছবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাল ও ডালের সমন্বয়ে তৈরি খিচুড়িতে পর্যাপ্ত ফাইবার ও পুষ্টিগুণ থাকায় এটি
বর্ষাকালে জলবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়লেও গরম খিচুড়ি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে বলে ধারণা রয়েছে। একসময় অসুস্থ ব্যক্তির পথ্য হিসেবেও খিচুড়ির ব্যবহার ছিল বেশ প্রচলিত। পাশাপাশি গলা ব্যথা বা সর্দি-কাশির মতো মৌসুমি সমস্যায় গরম খাবার খাওয়ার অভ্যাসও এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।
বৃষ্টির সঙ্গে খিচুড়ির সম্পর্কের পেছনে রয়েছে ইতিহাস ও গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা। জনশ্রুতি রয়েছে, বাউলরা বাড়ি বাড়ি গান গেয়ে পাওয়া চাল ও ডাল একসঙ্গে রান্না করে খেতেন, যা পরবর্তীতে ‘খিচুড়ি’ নামে পরিচিতি পায়। আবার বর্ষাকালে গ্রামাঞ্চলে বাজারে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে ঘরে থাকা চাল-ডাল দিয়েই সহজে খিচুড়ি রান্না করা হতো। ভেজা কাঠে দ্রুত রান্নার সুবিধা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আলু বা সবজি যোগ করার সুযোগও এই খাবারকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
সময়ের সঙ্গে খিচুড়ি শুধু একটি খাবার নয়, বরং বর্ষার আবেগ, শৈশবের স্মৃতি এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কারও পছন্দ মুগ ডালের ভুনা খিচুড়ি, কারও আবার পাতলা ঝোলের ল্যাটকা খিচুড়ি। কেউ সবজি, কেউ মাংস কিংবা ইলিশ মাছের সঙ্গে খেতে ভালোবাসেন। বহু বছরের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক আজও বৃষ্টির দিনে বাঙালির রসনায় খিচুড়িকে করে রেখেছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খাবার।
/টি