
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার ঘটনাকে ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান। রোববার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানোর আশঙ্কার কথা জানান।
ইয়ার গোলান বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আবারও সংঘাতে জড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে বারবার সংঘাতের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে ইসরাইল, যা নেতানিয়াহুর ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে। তাঁর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি সংঘাত পরিচালনার মতো নৈতিক বৈধতা, এমনকি মৌলিক সক্ষমতাও নেতানিয়াহুর নেই।
গোলানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে ইসরাইল ও ওয়াশিংটন। এ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন গোলান। তিনি সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরাইলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব নতুন সরকার গঠন করা জরুরি।
এদিকে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী দল—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি।
নির্বাচনের এই ফলাফলে ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন, জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা কিংবা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের মতো কয়েকটি সম্ভাবনা সামনে এসেছে। এমন রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষমতা ধরে রাখতে ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতে জড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান। সূত্র: আনাদোলু।