
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের আগেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরায়েল। এ পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি হাইকমান্ড। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা কত দিন স্থায়ী হবে, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) হিব্রু সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আম্মানভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম রোয়া নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক মোতায়েন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতার মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক বিমান ইসরায়েলে অবতরণ করেছে। তবে ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথিত স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযানের পছন্দের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও নিয়মিত হালনাগাদ করছে ইসরায়েল। তালিকায় ইরানের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একটি রণাঙ্গন সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। আইডিএফ সূত্রের দাবি, উত্তর দিক থেকে ড্রোন, রকেট ও চালকবিহীন আকাশযানের সমন্বিত হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি না করার বিষয়েও সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের পাশাপাশি সামরিক বিমান চলাচলও বাড়ানো হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার অর্থ এই নয় যে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বরং সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি ইরানের পাল্টা হামলা কিংবা আগাম সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়া, নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
টি/