
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভূরাজনৈতিক বিভাজনের কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বাড়ছে এবং সংঘাতগুলো ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মহাসচিব হিসেবে নিজের শেষ ভাষণ দেওয়ার আগের দিন সোমবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
গুতেরেস বলেন, বিভিন্ন যুদ্ধে পরাশক্তি ও নিরাপত্তা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে এক ধরনের দায়মুক্তির পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে মাঝারি শক্তির দেশগুলোও মনে করছে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো পদক্ষেপ নিতে পারে এবং এর জন্য কোনো পরিণতি ভোগ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাব খাদ্যপ্রাপ্তি, জ্বালানির দাম ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে বলে উল্লেখ করেন গুতেরেস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষিপণ্য, সার ও জ্বালানি রপ্তানিতে কৃষ্ণসাগরকেন্দ্রিক সংকটের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির সমস্যা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তেল স্থাপনায় হামলা যুক্ত হয়েছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাব বিশ্বের বহু অর্থনীতির ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে।
গুতেরেস বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও উন্নয়নশীল বিশ্বের মানুষ ক্রমেই মরিয়া পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে। জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সারের সংকট তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে গুতেরেস বলেন, বর্তমান কাঠামো এখনো মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে।
২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়া গুতেরেসের বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তাঁর উত্তরসূরি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফের্নান্দা এসপিনোসা। নতুন মহাসচিব নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন এবং পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের—কোনো একটি দেশের ভেটো এড়াতে হয়। এরপর নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদে ভোটের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হন।
/টি