
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে এসব সংবাদমাধ্যমের ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সময় সংবাদমাধ্যমগুলোকে ‘কল্পকাহিনি ও মিথ্যা’ প্রচার করতে দেওয়া উচিত নয়। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের নামও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে
ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন উঠেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করে এবং নিষেধাজ্ঞাটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। সিএনএন বলেছে, তাদের হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদক দল ন্যায্য ও নির্ভুল সংবাদ প্রকাশ করে এবং সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার তাদের রয়েছে। পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখবে এবং প্রথম সংশোধনীর অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে।
এদিকে, ট্রাম্পের আরেকটি দাবি—পলিটিকো সরকারি ভর্তুকি পেয়েছে—প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পলিটিকোর পক্ষ থেকে এ দাবিকে ‘মিথ্যা’ এবং আগেই ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে—এমন প্রতিবেদন নিয়েও তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করেছিলেন। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF) বলেছে, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সাংবাদিকদের বিশেষ সুবিধা নয়; জনগণের স্বাধীনভাবে তথ্য পাওয়ার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছে।
/টি