
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইতালিতে পর পর ১২টি ভূমিকম্প, জরুরি সতর্কতা জারি
ইউরোপের সুন্দর দেশ ইতালি। প্রতিদিনের মতোই সাধারণ মানুষ ব্যস্ত ছিলেন তাদের স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রকৃতির এক এমন রূপ দেখল দেশটির মানুষ, যা আগে কখনো দেখেনি। একটি বা দুটি নয়, পরপর ১২টি শক্তিশালী ভূমিকম্বেপ কেঁপে উঠলো মাটি।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে হঠাৎ করেই সমুদ্রের তলদেশ ৪.৩ মাত্রার একটি কম্পনে কেঁপে ওঠে। মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই, দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে আঘাত হানে আসল বিপর্যয়। তিরেনিয়ার সাগরের গভীর তলদেশ থেকে ৫.২ থেকে ৫.৫ মাত্রার একটি প্রচণ্ড শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো সিসিলি অঞ্চলকে কাঁপিয়ে দেয়। তবে তাণ্ডব এখানেই শেষ হয়নি। এর পর থেকে দুপুর ১টার মধ্যে আরও ১০টি মাঝারি মাত্রার আফটারশক রেকর্ড করা হয়, যার প্রতিটির মাত্রা ছিল ৩.০-এর ওপরে। মাত্র কিছু সময়ের মধ্যে মোট ১২টি ধাক্কায় পুরো এলাকার মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তীব্র ঝাঁকুনিতে যখন ঘরবাড়ি আর বহুতল ভবনগুলো দুলতে শুরু করে, তখন হাজার হাজার মানুষ প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ফিলিকুদি দ্বীপের একটি আস্ত পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে সরাসরি সাগরের পানিতে গিয়ে পড়ে। চারিদিকের এই ভয়াবহ কাঁপন আর পাহাড় ধসের কারণে সমুদ্রের পানি বিপজ্জনকভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে।
সমুদ্রের পানি যেকোনো সময় উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় পুরো উপকূলীয় এলাকায় জরুরি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। বড় কোনো বিপদ এড়াতে পালেরমো ও মেসিনা অঞ্চলের সব স্কুল, কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাথে সাথে খালি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি আদালত ও সরকারি অফিসগুলো থেকেও মানুষদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়।