
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
‘চাম্পি’র তাণ্ডবে অচল তাইওয়ান
প্রকৃতির এক বিশাল দুর্যোগের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাইওয়ান। প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী সুপার টাইফুন চাম্পির আঘাতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। তীব্র বাতাস আর রেকর্ড ভাঙা মুষলধারে বৃষ্টিতে থমকে গেছে কোটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ধেয়ে আসা এই ঝড়টি তাইওয়ানের বুকে এক ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপকূল অতিক্রম করার সময় ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। এই প্রবল বাতাসের তোড়ে বহু ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আর জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ঝড়ের আঘাতে আহত হয়েছেন ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ।
ঝড়ের কারণে তাইওয়ানের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দেশটির আকাশপথ একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। বাতিল করা হয়েছে ২৬২টি অভ্যন্তরীণ এবং ৬৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। রাজধানী তাইপেইসহ দেশের ২২টি কাউন্টির সমস্ত স্কুল, কলেজ, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং দেশের প্রধান শেয়ারবাজার সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া তীব্র বাতাসের কারণে ২ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি অন্ধকার হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায়।
পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই ৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। ঝড়ের ধাক্কা সামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রাস্তাঘাট থেকে উপড়ে পড়া গাছপালা ও ধ্বংসস্তূপ সরাতে সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছে জরুরি উদ্ধারকারী দল।
টাইফুন চাম্পি তাইওয়ান উপকূল পার হয়ে এখন কিছুটা দুর্বল হয়েছে এবং উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময়ে এটি চীন বা জাপানের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আপাতত দুর্যোগের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই করছে তাইওয়ানবাসী।