
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ধসে পড়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি
রাত তখন ১০টা ৩৩ মিনিট। তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ যখন মাত্রই রাতের ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই যেন মাটির নিচ থেকে ধেয়ে এল এক দানবীয় গর্জন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের তীব্র ঝাঁকুনিতে চোখের পলকে কংক্রিটের সাজানো একেকটি বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি আক্ষরিক অর্থেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে শুরু করে। অন্ধকার রাত চিরে মুহূর্তেই চারদিক মেতে উঠল আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদে।
গত বৃহস্পতিবার চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আঘাত হানা এই শক্তিশালী ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি কেবল মাটিকে কাঁপায়নি, স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো অঞ্চলকে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ের মূল কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের নাগছু শহর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে এক পাহাড়ি এলাকায় এবং রাজধানী লাসা থেকে এর দূরত্ব ছিল ৩৯০ কিলোমিটার।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চোখের পলকে মাটির সাথে মিশে গেছে ৩৩৯টি বাড়িঘর। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন চাপা পড়ে আছেন, তা এখনো অনিশ্চিত। বর্তমানে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তূপে প্রাণের খোঁজে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আতঙ্কিত মানুষ রেস্তোরাঁ ও ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণভয়ে রাস্তায় এসে জড়ো হচ্ছেন। প্রকৃতির এই তাণ্ডব তিব্বতবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২৫ সালের তিংশি কাউন্টির সেই ভয়াল স্মৃতিকে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১২৬ জন। এই ধ্বংসযজ্ঞের রেশ কাটতে না কাটতেই পাশ্ববর্তী ভারতের অরুণাচল সীমান্ত এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে ৫.২ মাত্রার আরও একটি কম্পন। ধ্বংসস্তূপের মাঝে এখন শুধু স্বজনহারাদের কান্না আর নতুন কোনো অলৌকিক প্রাণের বেঁচে ফেরার অপেক্ষা।