
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহেরদাদ আখলাকি কেতাবচির নিয়োগ অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তার নিয়োগের পক্ষে ২৩৭টি এবং বিপক্ষে ১৫টি ভোট পড়ে। কোনো আইনপ্রণেতা ভোটদানে বিরত থাকেননি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
নিয়োগের আগে পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন আখলাকি কেতাবচি। তিনি বলেন, দেশ দুটি ইরানে আবারও হামলা চালালে তেহরান ‘বিস্ময়কর ও ব্যাপক’ পাল্টা জবাব দেবে। সম্ভাব্য হামলার কারণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিণতি তৈরি হবে, তার দায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলায় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন। তার মৃত্যুর পর মাজিদ এবন আল-রেজা ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে সেই দায়িত্বের স্থায়ী দায়িত্বভার পেলেন আখলাকি কেতাবচি। তিনি আরও দাবি করেন, গত ৩৫ বছর ধরে তিনি শত্রুদের ‘হত্যার তালিকায়’ রয়েছেন। পাশাপাশি ইরানের ভাষায় ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন আখলাকি কেতাবচি। এর আগে তিনি দেশটির অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান ছিলেন। নতুন দায়িত্বে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাঠামো পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিয়োগ অনুমোদিত হলো। আখলাকি কেতাবচির বক্তব্যে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তার নেতৃত্বে ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সামরিক গবেষণা ও নিরাপত্তা কৌশলে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
টি/