
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো, তীব্র শিক্ষক সংকট এবং জীবনযাত্রার ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নেন, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে এবং অন্তত ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সংঘর্ষে প্রায় ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু।
রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির একাধিক শহরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমদিকে মূল মিছিলটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার দিকে শহরের প্লাস দ্য লা রিপাবলিকসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সহিংসতাকারীরা বিভিন্ন ভবনে অগ্নিসংযোগ, গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে লিমোজ শহরের সিটি হলে আগুন লেগে ভবনের ছাদের একাংশ ধসে পড়ে এবং লিয়ঁ শহরের ঐতিহাসিক পর্যটন দপ্তরের ভবনটি অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মূলত মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ‘লিসে’গুলোতে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত অব্যবস্থা এবং কর্মী সংকটের প্রতিবাদে তরুণ শিক্ষার্থীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ, ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য এবং ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা এতে যোগ দিলে প্রতিবাদটি নতুন মাত্রা পায়। যুবকদের অভিযোগ—দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা সত্ত্বেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে।
আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ এখন দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উগ্র বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন, তবে লুটপাটের নিন্দাও জানান। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু ও ডানপন্থী নেত্রী মারিন লে পেন অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতাকে নিজেদের স্বার্থে উসকে দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতায় জড়িতদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণা দিয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে তিন হাজার নতুন অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিলেও ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের শান্ত করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগ দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সরকারকে অনতিবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।
টি/