
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভালো থাকতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিকিৎসক ও গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শুধু কত ঘণ্টা ঘুম হচ্ছে তা নয়, প্রতিদিন ঘুমানো ও জেগে ওঠার সময়ের নিয়মিততাও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস ঘুমের মানের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাজ্যে ৬০ হাজার ৯৭৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় প্রায় এক কোটি ঘণ্টার ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা তুলনামূলকভাবে নিয়ম মেনে ঘুমাতেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ থেকে ৪৮ শতাংশ কম ছিল। এমনকি মৃত্যুঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে মোট কত ঘণ্টা ঘুম
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সঙ্গে শরীরের নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ঘড়ির সম্পর্ক থাকতে পারে। ঘুম ও জাগরণের পাশাপাশি রক্তচাপ, হরমোন নিঃসরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এই ছন্দের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন ঘুমানো ও জেগে ওঠার সময় বারবার বদলে গেলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের জৈবিক ছন্দ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা যেতে পারে। ঘুমানোর আগের অন্তত এক ঘণ্টা মোবাইল, কম্পিউটার ও উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ছুটির দিনেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় খুব বেশি দেরি করে না ওঠা ভালো। পাশাপাশি সকালে কিছু সময় প্রাকৃতিক আলোয় কাটানো ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। একদিন রুটিনে ব্যতিক্রম ঘটলে অবশ্য অতিরিক্ত দুশ্চিন্তারও প্রয়োজন নেই; লক্ষ্য হওয়া উচিত যতটা সম্ভব নিয়মিত থাকা।
ভালো ঘুমের জন্য তাই শুধু আট ঘণ্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখলেই হবে না, কখন ঘুমাচ্ছেন এবং কখন ঘুম থেকে উঠছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা এবং সকালে প্রাকৃতিক আলোয় থাকার মতো ছোট ছোট অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের রুটিনও সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
টি/