
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে হলুদ বা টারমেরিকের কথা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনের প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি কিছু স্বাস্থ্য সমস্যায় এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
পুষ্টিবিদ গ্যাব্রিয়েল কিশনারের মতে, কারকিউমিন ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। একইভাবে প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, আর্থ্রাইটিস ও সোরিয়াসিসের মতো সমস্যায়ও এটি উপকারী হতে পারে। পুষ্টিবিদ জুলিয়ানা ভোক্কার ভাষ্য, কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারকিউমিন শরীরে প্রদাহ তৈরির সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রক্রিয়া ও এনজাইমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে
তবে হলুদ বা কারকিউমিন সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নাও হতে পারে। অতিরিক্ত গ্রহণে বমি বমি ভাব, অ্যাসিডিটি, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় গ্রহণে লিভারের সমস্যা বা আয়রনের ঘাটতি এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী, কিডনি বা পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগে আক্রান্তদের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও স্বাধীনভাবে পরীক্ষিত পণ্য নির্বাচন করা উচিত। পাইপেরিন বা ব্ল্যাক পেপারের উপাদান যুক্ত সাপ্লিমেন্ট কারকিউমিনের শোষণ বাড়াতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার একক সমাধান নয়। প্রদাহ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ। কারকিউমিনের উপযুক্ত মাত্রা নির্ধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
টি/