
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
দিনভর ব্যস্ততার পর এক কাপ গরম চা অনেকের কাছেই স্বস্তির মুহূর্ত। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে প্রিয় চা পান করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থায় সাধারণত চা পান করা যায়। তবে চায়ের ধরন এবং এতে ব্যবহৃত চিনি, দুধ ও অন্যান্য উপাদানের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মাইল্ড সিম্পল হেপাটিক স্টিয়াটোসিস বলা হয়। এটি লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রাথমিক পর্যায়। সাধারণত এ পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতি নাও হতে পারে। তবে জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়তে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার ও স্বাস্থ্যকর
কালো চা বা ব্ল্যাক টিতে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতের গ্যাস্ট্রোঅ্যান্টেরোলজি ও হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনন্যা মুখার্জির বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভারের জন্য ব্ল্যাক টি নিজে দায়ী নয়; বরং চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, কনডেন্সড মিল্ক বা ঘন দুধ যোগ করাই বেশি উদ্বেগের বিষয়। তবে চায়ের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি নিয়মিত গ্রহণ ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে ভালো অভ্যাস নয়। চিনি শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি ও ফ্রুক্টোজের জোগান দিতে পারে। ফ্রুক্টোজের একটি বড় অংশ লিভারে বিপাক হয় এবং অতিরিক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লিভারে চর্বি তৈরির প্রক্রিয়া বাড়তে পারে। তাই চায়ে চিনি, কনডেন্সড মিল্ক বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত দুধের ব্যবহার কমানো বা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
লিভারবান্ধব চা তৈরিতে চিনি বাদ দিয়ে আদা, এলাচ, লবঙ্গ বা দারচিনির মতো মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে। ফুল-ক্রিম দুধের পরিবর্তে লো-ফ্যাট বা স্কিমড মিল্ক এবং চিনি ছাড়া উদ্ভিজ্জ দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। চা ও মসলা প্রথমে গরম পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে পরে অল্প দুধ মেশানো যেতে পারে। তবে গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার থাকলে শুধু চায়ের ধরন পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়; খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
/টি