
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আপেলকে স্বাস্থ্যকর ফলের তালিকায় রাখেন প্রায় সবাই। এতে রয়েছে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাসের অংশ হিসেবে আপেলও ভালো একটি বিকল্প। তবে রাতে বা ঘুমানোর আগে আপেল খাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে নানা ধরনের প্রশ্ন। বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য রাতে একটি আপেল খাওয়া নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। তবে হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা অ্যাসিডিটির প্রবণতা থাকলে ঘুমানোর ঠিক আগে আপেল খেলে অস্বস্তি হতে পারে।
আপেলে থাকা খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে এতে ফ্রুক্টোজও রয়েছে, যা কিছু মানুষের শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয় না। ফলে অন্ত্রে
ঘুমানোর ঠিক আগে আপেল খাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যক্তিভেদে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। আপেল খাওয়ার পর কারও গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হলে সেই অস্বস্তি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে আপেল খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, রাতে আপেল খেয়ে কোনো সমস্যা না হলে শুধু সময়ের কারণে সেটিকে ক্ষতিকর খাবার মনে করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একইভাবে, আপেল খাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ‘সেরা সময়’ রয়েছে—এমন শক্ত প্রমাণও নেই।
খালি পেটে আপেল খেলেই বেশি উপকার পাওয়া যায়, এমন প্রমাণ নেই। সকালে নাশতার সঙ্গে কিংবা দিনের মাঝামাঝি আপেল খাওয়া যেতে পারে। চাইলে দই, বাদাম বা অন্য কোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গেও আপেল খাওয়া যায়। ভালোভাবে ধুয়ে খেতে পারলে আপেলের খোসা ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ খোসাতেও খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। আর শুধু রাতে আপেল খাওয়ার কারণে ওজন বেড়ে যায়—এমন প্রমাণও নেই; ওজন নিয়ন্ত্রণে সারাদিনের মোট ক্যালরি গ্রহণ, খাবারের ধরন ও পরিমাণ এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য রাতে আপেল খাওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে আপেল খাওয়ার পর নিয়মিত গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা বা অন্য কোনো হজমের সমস্যা হলে বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এটি এড়িয়ে চলা ভালো। আইবিএস, ফ্রুক্টোজ অসহিষ্ণুতা বা অন্য কোনো হজমের সমস্যা থাকলে ব্যক্তির সহনশীলতা অনুযায়ী ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। তাই আপেল খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়কে কেন্দ্র করে ভয় না পেয়ে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: টিভি ৯
/টি