
বিদেশে কেন বারবার ব্যর্থ ভারত?
ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের শোচনীয় পরাজয় শুধু একটি বাজে দিনের ফল নয়, বরং বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি কৌশলগত দুর্বলতাকেই আবারও সামনে এনে দিয়েছে। পেসারদের নির্ভুল হার্ড লেংথের (৬-১০ মিটার) বোলিং সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ভারত নিজেদের ১৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন টি-টোয়েন্টি স্কোরে অলআউট হয় এবং টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের মুখ দেখে।ম্যাচ শেষে ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার দলের ব্যাটিংকে "জঘন্য" বলে মন্তব্য করেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই ব্যর্থতা নতুন নয়। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ, ২০২৬ সালে আয়ারল্যান্ড সফর এবং চলমান ইংল্যান্ড সিরিজ—সব ক্ষেত্রেই হার্ড লেংথের পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ভারতের ব্যাটিং গড় ছিল যথাক্রমে ১৮.৪২, ১৭.১৭ এবং মাত্র ১৪.২৯।অন্যদিকে, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষে ভারতের ব্যাটিং গড় ছিল ৪৭.৭০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৫.৬৩। অর্থাৎ, বিদেশের কন্ডিশনে একই দুর্বলতা বারবার প্রকাশ পাচ্ছে।ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিদেশের মাটিতে হার্ড লেংথের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে কেবল তিলক ভার্মাই তুলনামূলকভাবে সফল। অভিষেক শর্মা, শুভমান গিল, সঞ্জু স্যামসন, অক্ষর প্যাটেল, শিবম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়াসহ অধিকাংশ ব্যাটারই ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।পরিহাসের বিষয়, একই ম্যাচে ভারতের পেসাররাও ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের বিপক্ষে হার্ড লেংথ কৌশল ব্যবহার করে সাফল্য পান। আরশদীপ সিং শুরুতে সুইং আদায়ের পর ধারাবাহিকভাবে উইকেটমুখী লেংথে বল করেন। অতিরিক্ত বাউন্সের কারণে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদেরও রান তুলতে বেগ পেতে হয়। ম্যাচ শেষে হ্যারি ব্রুক স্বীকার করেন, স্টাম্পের ওপর দিয়ে শট খেলা সহজ ছিল না।তবে ইংল্যান্ডের পেসাররা সেই পরিকল্পনা আরও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেন। জফরা আর্চার ও জশ টাং ধারাবাহিকভাবে ১৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে হার্ড লেংথে বল করে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলেন। তাদের ৮৮ শতাংশের বেশি ডেলিভারির গতি ছিল ১৪০ কিমি/ঘণ্টার ওপরে। বিপরীতে ভারতের পেসাররা ৭৮টি ডেলিভারির মধ্যে মাত্র দুটি বল ১৪০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতিতে করতে সক্ষম হন।ম্যাচের শুরুতেই আর্চার তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে শর্ট বলের ফাঁদে ফেলে আউট করেন। পরে টাং হার্ড লেংথে ফিরে অভিষেক শর্মার উইকেট তুলে নেন। এরপর ঈশান কিষাণ, অক্ষর প্যাটেল ও শিবম দুবেও একই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষে স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাননি। গুড লেংথ ও ব্যাক-অব-লেংথ মিলিয়ে আর্চার ও টাং ২৬টি বলে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন।ট্রেন্ট ব্রিজের এই পরাজয় ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার হলেও, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ বলছে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড—বিদেশের মাটিতে একই ধরনের হার্ড লেংথ বোলিংয়ের বিপক্ষে ভারতের দুর্বলতা বারবার সামনে এসেছে। ফলে ভবিষ্যতেও প্রতিপক্ষ দলগুলো এই কৌশলকে ভারতের বিপক্ষে অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।© ক্রিকবাজ/টি