logo
youtube logotwitter logofacebook logo

জাতীয় গ্রিড

ভোলার ইলিশা-১ কূপকে দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র ঘোষণা - image

ভোলার ইলিশা-১ কূপকে দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র ঘোষণা

21 মে 2023, বিকাল 6:00

ইলিশাকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে ইলিশা-১ কূপ দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পাবে। এছাড়া আরও দুটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে ভোলায়। সোমবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর বারিধারায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, এ গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুত ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, দৈনিক উত্তোলন করা যাবে ২০-২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৬ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ইলিশা থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। একটা বড় সম্ভাবনার দিক উন্মোচন হলো। দেশের মানুষের জন্য এটা সুখবর।তিনি বলেন, এখানে পাওয়া গ্যাসের দাম ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। একই পরিমাণ আমদানি করা গ্যাসের দাম পড়বে ২৮ হাজার কোটি টাকা। ভোলার গ্যাসক্ষেত্রটি বড় আকারের স্বপ্ন দেখাচ্ছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ভোলার গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করছি আমরা। পাইপলাইন নির্মাণ করে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দুই বছরের মধ্যে পাইপলাইন সম্পন্ন করতে চায় সরকার। পাইপলাইনে ভোলার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে লাগবে আরও তিন বছর। তিনি বলেন, যত শিল্প এলাকা হবে ভবিষ্যতে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ভোলার গ্যাস দিয়ে মানুষকে কীভাবে সুবিধা দেওয়া যায়, সেটা আমরা বিবেচনা করে দেখছি। এর আগে ভোলার ইলিশাকে দেশের নতুন গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে জ্বালানি বিভাগে প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। দেশের গ্যাস সংকট আর ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে ভোলার ইলিশা। তিনটি স্তরে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার পর বাপেক্সের ধারণা, ইলিশা-১ কূপটিতে মজুত রয়েছে ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এ মজুত দেশের বিদ্যমান অন্তত দশটি গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় বেশি। বাপেক্স বলছে, প্রাথমিক অবস্থায় দৈনিক ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের যোগান দিতে পারবে ইলিশা-১। আর এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে ২৬ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত।গত ৮ মার্চ ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিয়া ইউনিয়নের মালের হাট এলাকায় ‘ইলিশা-১’ কূপ খননকাজ শুরু করে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম। ৩ হাজার ৪৩৬ মিটার গভীরে গ্যাসের সন্ধান পেলে ২৪ এপ্রিল প্রথম স্তরের খননকাজ শেষ করা হয়। প্রথম স্তরের সফলতার পর গত ৭ মে দ্বিতীয় স্তরেও মেলে গ্যাসের সন্ধান। পরে ১৫ মে তৃতীয় স্তরেও পাওয়া যায় গ্যাসের সন্ধান।

মে ২১, ২০২৩
পরিত্যক্ত কূপ সচল, দৈনিক আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন - image

পরিত্যক্ত কূপ সচল, দৈনিক আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন

09 জুন 2023, বিকাল 6:00

পরিত্যক্ত ঘোষণার পর বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির (বিজিএফসিএল) আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৪ নম্বর কূপ থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে ৷ শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে আট মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. শোয়েব। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কূপটি খনন করেছিল চীনের কোম্পানি সিনো প্যাক। পরিত্যক্ত হওয়ার পর ৪৫ দিনের চেষ্টায় বাপেক্স কূপটির সংস্কার করেছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সবার জন্য স্বস্তি ও আনন্দের খবর। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের অধীনে তিতাস-২৪ নং কূপ থেকে আজ হতে দৈনিক আট মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস যুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিডে।’ ‘বাপেক্সসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবিরাম প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো’।‘জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেকোনো সংকট পাড়ি দেবার সামর্থ অর্জন করেছে। আস্থা রাখুন। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো’।

জুন ০৯, ২০২৩
কক্সবাজার রেললাইন ছাড়াও আজ ১৬ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী - image

কক্সবাজার রেললাইন ছাড়াও আজ ১৬ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

10 নভেম্বর 2023, বিকাল 6:00

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন আজ শনিবার (১১ নভেম্বর)। স্বপ্নের এই রেললাইনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে উদ্বোধন করবেন ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬টি প্রকল্প। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান বলেন, ‘রেললাইন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী যে ১৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন, তাতে রয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত মাতারবাড়ী এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযুক্তি প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্স গার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার সদরে খাল লাইনিং এপ্রোচ রোড ও ব্রিজ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চারটি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প। এ ছাড়াও রয়েছে জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নাধীন তিনটি প্রকল্প। মাতারবাড়ী এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র   সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর অন্যতম মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি জাপানের আর্থিক সহায়তায় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু হয় ২৯ জুলাই দুপুরে। ছয় মেগাওয়াটের পরীক্ষামূলক উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এটি ১২ মেগাওয়াটে উৎপাদন শুরু করে অক্টোবরের শুরুতে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনোওয়ার হোসেন মজুমদার জানান, উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। মহেশখালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে এক হাজার ৬০৮ একর জমির ওপর স্থাপিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ইউনিটে বিভক্ত। এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিএল) বাস্তবায়ন করেছে। প্রকৌশলী মনোওয়ার হোসেন জানান, ২০১৪ সালে অনুমোদন পাওয়া মাতারবাড়ী আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোলপাওয়ার প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা) এই প্রকল্পের জন্য ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, এই অর্থ বৃদ্ধি করে জাইকা মোট ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা দিয়েছে। এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করেছে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত প্রকল্প কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযুক্ত হয়েছে। সমুদ্রের নিচ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয় গত ১৩ এপ্রিল। ওই দিন থেকে দ্বীপটির দেড় হাজার গ্রাহক পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে শুরু করে। এই প্রকল্পটির পরিচালক ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ জানান, কুতুবদিয়া দ্বীপে ১৯৮০ সাল থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে সান্ধ্যকালীন কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। ওই দেড় হাজার গ্রাহককে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চালু করা হয়েছে। দ্বীপের ২০ হাজার গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। প্রকল্প পরিচালক জানান, ‘দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে ২০২০ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ৪০০ কোটি টাকায় ‘হাতিয়া দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপে শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতায়ন’ প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু, নির্ধারিত সময়ের আগেই কুতুবদিয়ায় পৌঁছে গেল জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ। প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে কুতুবদিয়া। সাগরতলে দুই লেনে গেছে দীর্ঘ ছয় কিলোমিটার ক্যাবল। সেখানে ১২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন উপকেন্দ্র, ৭২০ কিলোমিটার সঞ্চালন বিতরণ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। বাঁকখালী নদীতে ৫৯৬ মিটার পিসি বক্স গার্ডার ব্রিজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কক্সবাজার অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে ‘কক্সবাজার-খুরুশকুল’ সংযোগ সেতু। এটি হচ্ছে বক্স গার্ডার সেতু। মামুন খান জানান, ৫৯৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৫৯ কোটি টাকা। সেতুটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর। ২০২১ সালের আগস্টের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি ও নানা জটিলতায় কাজ শেষ হতে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লেগেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এই সেতুটি নির্মাণের ফলে পর্যটন শিল্প খাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কক্সবাজার শহরকে সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রে এই সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান আরও বলেন, কক্সবাজার শহরের উত্তর দিকে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সেখানে যারা জমি দিয়েছে, তাদের চার হাজার ৪০৯টি পরিবারকে খুরুশকুল প্রান্তে আবাসন ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সরকার। তাদের যাতায়াতে এই সেতুটি ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়াও এই সেতুটি নির্মাণের ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের দূরত্ব অনেক কমে যাবে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আজ উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার সদরে খাল লাইনিং এপ্রোচ রোড ও ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প। যেখানে রয়েছে চার কোটি টাকায় নির্মিত কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ঠান্ডা চৌকিদার পাড়ার ৬০ মিটার সিসি গার্ডার ব্রিজ, ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চকরিয়া বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ প্রকল্প, উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশখালীতে গোরকঘাটা-জনতা বাজার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী আরও যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প—৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার সদরের জাহারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশখালীর ইউনুসখালি নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে উখিয়ার রত্নাপালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও মারিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৫ কোটি টাকায় বাস্তবায়নকৃত রামু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকনাফ মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার শেল্টার কাম আইসোলেশন সেন্টার, রামুর নন্দাখালীতে ১৮৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণ প্রকল্প।

নভেম্বর ১০, ২০২৩
কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী - image

কক্সবাজার পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

10 নভেম্বর 2023, বিকাল 6:00

দোহাজারি-কক্সবাজার রেল লাইন, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনসহ বেশ কিছু প্রকল্প উদ্বোধন করতে ঢাকা থেকে আকাশ পথে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা হন তিনি। কক্সবাজার বিমাবন্দর থেকে সড়ক পথে যাবেন আইকনিক রেলস্টেশনে। সেখানে চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেল লাইন রেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করবেন এবং কক্সবাজারে আইকনিক রেলস্টেশন উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী আজ কক্সবাজারে ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এগুলো হলো- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযুক্তি প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্স গার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার সদরে খাল লাইনিং অ্যাপ্রোচ রোড ও ব্রিজ। স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪টি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প। এছাড়াও রয়েছে জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ৩টি প্রকল্প।

নভেম্বর ১০, ২০২৩
গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার হাতে নিচ্ছে দুটি নতুন প্রকল্প। - image

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার হাতে নিচ্ছে দুটি নতুন প্রকল্প।

19 এপ্রিল 2025, বিকাল 6:00

দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা পূরণ ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিতব্য ৯ম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রথম প্রকল্পটি হলো ‘তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন’, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৯৮ কোটি টাকা। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হবে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এই দুটি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। দ্বিতীয় প্রকল্পটি ‘বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের খনন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণ’, যা ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হবে। এই দুটি প্রকল্প মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯২০ কোটি টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৪,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে প্রায় ১,৭০০–১,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাকিটা আমদানিকৃত। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে আবাসিক, সিএনজি ও শিল্প খাতে। এই ঘাটতি কমাতেই সরকার গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন জানিয়েছেন, এ দুটি প্রকল্প ছাড়াও একনেক সভায় আরও আটটি মন্ত্রণালয়ের ১৪টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল মেরিন অবকাঠামো উন্নয়ন, মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি সেক্টর প্রকল্প, বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ যন্ত্রপাতির উন্নয়ন, কৃষিখাতে টেকসই ও সহনশীল বিনিয়োগ সহায়তা, গ্রিন রেলওয়ে পরিবহন এবং সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত বে টার্মিনাল প্রকল্প, যার প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বন্দর কার্যক্রমে গতি আসবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এপ্রিল ১৯, ২০২৫
দুই মাসে সরকারের ৬০ অর্জন - image

দুই মাসে সরকারের ৬০ অর্জন

18 এপ্রিল 2026, বিকাল 8:22

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র দুই মাসে ৬০টি উল্লেখযোগ্য ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার এই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে এবং তিনি বিশ্বখ্যাত ‘টাইম’ সাময়িকীর প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার প্রথম দুই মাসেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো-১. ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তার কার্ড দেওয়া।২. কৃষক কার্ড: প্রান্তিক কৃষকদের ১০টি সুবিধা সংবলিত কার্ড বিতরণ শুরু।৩. ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ।৪. সংসদীয় গণতন্ত্র: রেকর্ড সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি এবং গুম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান।৫. নদী খনন: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও জলাশয় খননের কাজ শুরু।৬. জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভর্তুকি বৃদ্ধি।৭. সৌরশক্তি: জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য।৮. ফুয়েল কার্ড: জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং শুরু।৯. দ্রব্যমূল্য: প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রমজান ও পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।১০. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী দেওয়া এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ।১১. জাকাত আধুনিকায়ন: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক আধুনিকায়ন।১২. প্রবাসী কার্ড: প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ।১৩. হজ খরচ হ্রাস: হজযাত্রার খরচ ১২ হাজার টাকা কমানো ও নুসুক হজ কার্ড দেওয়া।১৪. নিয়োগ পরিকল্পনা: সরকারি অফিসের ৪ লাখ ৬৮ হাজার শূন্যপদ পূরণে ৩ মেয়াদি পরিকল্পনা।১৫. বন্ধ কারখানা: চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ।১৬. ইন্ডাস্ট্রি ইকোসিস্টেম: হাই-টেক পার্ক ও ইপিজেডে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ইকোসিস্টেম তৈরি।১৭. ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।১৮. জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করার কৌশল।১৯. বিদেশি বিনিয়োগ: বিনিয়োগ সহজীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা শিথিল।২০. শ্রমিক অধিকার: মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ঈদুল ফিতরে শতভাগ বেতন-বোনাস নিশ্চিতকরণ।২১. মালয়েশিয়া শ্রমবাজার: অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু।২২. ইউরোপে শ্রমবাজার: সার্বিয়া, গ্রিস ও রোমানিয়াসহ ৭টি দেশের সঙ্গে শ্রম চুক্তি।২৩. দক্ষতা বৃদ্ধি: বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে টিটিসি ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন।২৪. উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গকে ‘অ্যাগ্রো প্রসেসিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ।২৫. পে-পাল: বাংলাদেশে পে-পাল ও গ্লোবাল পেমেন্ট গেটওয়ে আনার কাজ শুরু।২৬. স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, যেখানে ৮০ শতাংশই নারী।২৭. ই-হেলথ কার্ড: ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ই-হেলথ কার্ড ও হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি।২৮. শিক্ষা ফি বাতিল: প্রতিবছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়া বাতিল ও বৃত্তি দ্বিগুণ করা।২৯. উচ্চশিক্ষায় ঋণ: বিদেশে পড়তে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।৩০. শিক্ষক নিয়োগ: মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্তরে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ।৩১. বাধ্যতামূলক খেলাধুলা: চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক ও নতুন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ।৩২. নতুন কুঁড়ি: শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণে আবারও ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু।৩৩. স্কুল কিট: ২ লাখ শিশুর মাঝে ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণ এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’।৩৪. মাদরাসা আধুনিকায়ন: মাদরাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম ও কারিগরি কোর্স চালু।৩৫. স্পোর্টস কার্ড: ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস কার্ড ও মাসিক ভাতা চালুর উদ্যোগ।৩৬. সবুজ বনায়ন: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু।৩৭. মিতব্যয়িতা: যমুনার বদলে প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাড়িতে অবস্থান ও নিজের গাড়ি ব্যবহার।৩৮. প্রটোকল সংস্কার: ট্রাফিক জট এড়াতে ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ ও শনিবারও অফিস।৩৯. ডিজিটাল ভূমি সেবা: ই-নামজারি ও অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বাধ্যতামূলক করা।৪০. পদ্মা ব্যারেজ: উত্তরবঙ্গকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ।৪১. মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি বাতিল: এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।৪২. পাটের ব্যবহার: সরকারি-বেসরকারি খাতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলককরণ।৪৩. ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার।৪৪. টিকাদান কর্মসূচি: বন্ধ থাকা হামের টিকা পুনরায় সারাদেশে চালু।৪৫. চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযান: চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের সংস্কার।৪৬. ইলেকট্রিক বাস: ঢাকায় পরিবেশবান্ধব বাস ও নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস।৪৭. নদী রক্ষা আইন: নদী দখলকারীদের ৫ বছরের জেল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।৪৮. জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি অফিসে এসি ও লাইট ব্যবহারে কঠোর ১১ নির্দেশনা।৪৯. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ।৫০. জ্বালানি নিরাপত্তা: ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ।৫১. ফুটপাত পুনর্বাসন: ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের কাজ।৫২. বাকস্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনার পরও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া।৫৩. থার্ড টার্মিনাল: শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর পদক্ষেপ।৫৪. ফ্রি ইন্টারনেট: দেশের বড় সব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় ফ্রি ওয়াই-ফাই।৫৫. ট্রেনে ইন্টারনেট: চলন্ত ট্রেন ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগ।৫৬. অর্থনৈতিক কূটনীতি: বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও বিনিয়োগ আকর্ষণকে দূতাবাসের অগ্রাধিকার।৫৭. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: প্রতিবেশী ও বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পানি ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে জোর।৫৮. অর্থ পাচার রোধ: ১০টি দেশের সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ শনাক্ত ও ফেরত আনার চুক্তি।৫৯. উপকূল রক্ষা: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।৬০. মানবাধিকার রক্ষা: গত দুই মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো নজির না থাকা ও আইনি সুরক্ষা।সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন।’/টিএ

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু - image

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

28 এপ্রিল 2026, বিকাল 3:33

অবশেষে স্বপ্নের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের মাধ্যমে দেশ প্রবেশ করছে এক নতুন যুগে। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তির অভিজাত ক্লাবে নিজের অবস্থান সুসংহত করল। দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শুধু প্রযুক্তির উৎকর্ষই নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আজ জ্বালানি লোডিং শুরু হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়াটি হবে ধাপে ধাপে। আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। একই বছরের মাঝামাঝি দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।কারিগরি দিক থেকে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। রাশিয়ার অত্যাধুনিক 'ভিভিআর-১২০০' রিঅ্যাক্টর ডিজাইনের এই কেন্দ্রে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ দিন। জ্বালানি লোডিংয়ের পর শুরু হবে 'ফিজিক্যাল স্টার্টআপ', যেখানে নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হবে। রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ৩০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রতিটি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরিচালনা করা হচ্ছে।প্রকল্পটির বিশালত্ব এর অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের চিত্রে স্পষ্ট। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। সঞ্চালন লাইনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে—প্রথম ইউনিটের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নির্মাণ পর্যায়ে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে রূপপুর কেন্দ্রটি হবে এক আস্থার প্রতীক। এর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর ধরা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে তা ৯০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। একবার জ্বালানি লোড করার পর টানা দেড় বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা আমদানিনির্ভর কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। যদিও শুরুতে প্রতি ইউনিটের উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ধরা হয়েছিল, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা আনবে।/টিএ

এপ্রিল ২৮, ২০২৬
বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেশ - image

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেশ

28 এপ্রিল 2026, বিকাল 6:04

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে অনন্য এক অধ্যায় সূচিত হলো।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (ইউনিট-১) ফুয়েল লোডিং করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিচালন পর্বে প্রবেশ করল।দুপুরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতর এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং দেশীয় দক্ষ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন শুরু করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, সচিব আনোয়ার হোসেন, রাশিয়ান সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাআভ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি বাংলাদেশকে স্বাগত জানান।এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেশ হলো। আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যোগ ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে।গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ইউনিট-১ এর জন্য জ্বালানি লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স দেয়। এর আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মানদণ্ড অনুযায়ী কয়েক স্তরের নিরাপত্তা পরীক্ষা ও প্রি-অপারেশনাল টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়।/টিএ

এপ্রিল ২৮, ২০২৬
জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা - image

জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

03 আগস্ট 2026, বিকাল 8:24

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে  তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবলায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা গুলো সাংবাদিকদের জানান, উপ প্রেস সচিব হাসান শিপুল। তিনি বলেন চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর তিনটি নির্দেশনা হলো:দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়ন নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”উপ প্রেস সচিব হাসান শিপুল আরও বলেন, “বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।“বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,  সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণে বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করে। কোম্পানি দুটি জানিয়েছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

আগস্ট ০৩, ২০২৬
এলএনজি কার্গো বিতর্কে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট - image

এলএনজি কার্গো বিতর্কে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট

14 আগস্ট 2026, বিকাল 1:20

এলএনজি কার্গো বিতর্কে দেশে তীব্র গ্যাস সংকটএকটি কার্গো। একে ঘিরেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশ। সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজিবাহী কার্গোটিকে ‘পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট। তাই এটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।সরকার বৈরী আবহাওয়ার ‘অজুহাত’ দিলেও মূলত এই আপত্তির কারণেই তিন দিন ধরে কার্গোটি বহির্নোঙরে ভাসছে। এতে গ্যাসের সরবরাহে ভয়াবহ ধস নেমেছে। শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে হাহাকার দেখা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে দৈনিক ১৮৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এগুলো হলো-মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল এবং দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপের সামিট এলএনজি টার্মিনাল। দুটিই আবার পরিচালনা করে এক্সিলারেট। এলএনজি খালাস না হওয়ায় ২০ জুলাই যেখানে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় করা হয়েছে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। ১০ বছর আগেও এর চেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হতো।একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করে ওই কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু এক্সিলারেট থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আরামকোর কার্গো সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করে গ্যাস খালাস করা যাবে না। কারণ, এ ধরনের কার্গো এই টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়।সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, তাহলে এ ধরনের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করা হলো কেন। সরকারের পক্ষে এলএনজি আমদানিকারক রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালেও এ ধরনের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করা হয়েছে এবং এক্সিলারেট সেই কার্গো থেকেই তা খালাস করেছে।পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বিটল এশিয়ার একটি এলএনজিবাহী কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় আসবে। সেটি হয়তো শেষ পর্যন্ত সামিটের টার্মিনালে সংযুক্ত করা হবে। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে পুরোদমে চালু করতে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল ২ থেকে ৩ দিনের জন্য বন্ধ করা হবে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে।বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই নাজুক। ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুনের ঘটনার পর এই বিপর্যয় দেখা দেয়। সরবরাহ দৈনিক ২৬৫ কোটি থেকে কমে ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে ওই সময়। ৫ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির আংশিক চালু হলে সরবাহ কিছুটা বেড়ে ২৩৫ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন কার্গো বিতর্কের কারণে সেই সরবরাহ একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি করা এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়। গত মাসের শেষে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার দরপত্র দিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কোনো উপায় না দেখে জি-টু-জির ভিত্তিতে তড়িঘড়ি করে সৌদি কোম্পানি আরামকো থেকে মস টাইপ কার্গো জাহাজে করে এলএনজি আমদানি করা হয়। সাধারণত দুই ধরনের কার্গোতে এই এলএনজি পরিবহণ করা হয়-একটি মস টাইপ, অন্যটি মেমব্রেইন টাইপ।বাংলাদেশ সাধারণত মেমব্রেইনে করেই এলএনজি আমদানি করে। কিন্তু এবার করল মস টাইপে। ১১ আগস্ট মধ্যরাতে আল হামরা নামে এই কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। বলা হয়, তখন সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে বাতাসের গতি ১৫ থেকে ২০ মিটার থাকলে কার্গোগুলো টার্মিনালের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হয়ে যায়। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, এখন মাতারবাড়ীতে বাতাসের যে গতি তাতে অন্য জাহাজ সহজে টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। কিন্তু আরামকোর আল হামরা কার্গো সংযুক্ত করতে সবুজ সংকেত দিচ্ছে না এক্সিলারেট।অনুসন্ধানে দেখা যায়, আসলে বৈরী আবহাওয়া নয়, আরামকোর জাহাজকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে মার্কিন ওই কোম্পানি। এ কারণে জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বারবার অনুরোধ করেছেন এক্সিলারেটকে। এর জবাবে এক্সিলারেট জানিয়েছে, টার্মিনালটি সামিট গ্রুপের। তাই কোনো ঝুঁকি নিতে হলে সামিটকে নিতে হবে। এক্সিলারেট কোনো ঝুঁকি নেবে না।এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিটের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আল হামরা জাহাজটি তারা যাচাই করে দেখেছে। সেটি পুরোনো মডেলের এবং সামিটের টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই এটি কোনোভাবেই খালাস করা যাবে না। তাছাড়া কোনো ধরনের এলএনজিবাহী কার্গো এখানকার টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য তার একটি তালিকা অনেক আগেই পেট্রোবাংলাকে দেওয়া হয়েছে। আরামকোর কার্গো ওই তালিকার মধ্যে পড়ে না। সুতরাং তারা জেনে-শুনে কেন এই কার্গো আনল।এ বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও এক্সিলারেট এনার্জি কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বুধ ও বৃহস্পতিবার ইমেইল ও এসএমএস করেও কোনো সাড়া মেলেনি।সামিট এলএনজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েদুল আলমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিবেদককে পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।তবে আরপিজিসিএল-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক্সিলারেট এনার্জি বা সামিটের এই তথ্য সঠিক নয়। কারণ, ২০২১ সালে ‘মারায়েহ’ নামে একই টাইপের কার্গো বাংলাদেশে এসে এলএনজি খালাস করে গেছে। এই এক্সিলারেটই তখন খালাস করেছে। এ প্রসঙ্গে আরপিজিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মন্তব্য নিতে বারবার যোগযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।এখন কী হবে; বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকার এখনো এক্সিলারেটকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। যাতে তারা আরামকোর পাঠানো ওই কার্গো থেকে খালাসের অনুমতি দেয়। যদি তা আজ-কালের মধ্যে না দেয়, তাহলে আগামীকাল বিটল এশিয়ার একটি কার্গো আসবে। সেটি সামিটের টার্মিনালে সংযুক্ত করা হবে। তখন গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo