logo
youtube logotwitter logofacebook logo

ঘনফুট গ্যাস

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ - image

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, কষ্টে আছে মানুষ

17 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ডের মধ্যেও দেশজুড়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। দিনে-রাতে সব সময়ই বিদ্যুৎ যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেক গ্রামে রাতে বিদ্যুৎ আসেই না। এ অবস্থায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎকেন্দ্রের অফিসেও হামলা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা বলেছেন, একবার কারখানা বন্ধ হলে পুরো কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে ফ্যাক্টরি চালু করতে আরও ২/৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এ অবস্থায় ঈদের আগে ব্যবসা-বাণিজ্য চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, কোনাবাড়ী, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ এলাকার পোশাকসহ অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দিনের অধিকাংশ সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো বিদেশে পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রপ্তানি অর্ডার বাতিলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত ভোগান্তি কমবে না। জানা যায়, গ্রামে অর্থাৎ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাভুক্ত এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। লোডশেডিংয়ে বেশি নাজুক ৬৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তবে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঢাকার শপিংমলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময়ও লোডশেডিং করা হচ্ছে না বলে জানায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। গ্রাহকরা বলেছেন, ঢাকায় দিনে বিদ্যুৎ থাকলেও বিদ্যুৎ যাচ্ছে গভীর রাতে। বিশেষ করে রাত ১টার পর বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টার মতো লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন, ঘুমের প্রস্তুতি নিয়ে বিছানায় যেতেই লোডশেডিং হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম বেড়ে যাওয়ায় এসি ও ফ্যান বেশি চলছে। পাশাপাশি রমজান ও সেচ মৌসুম চলার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা একলাফে অনেক বেড়েছে। উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরে রাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গরমে অতিষ্ঠ মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। অনেকে অসহ্য হয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ধানের ফলনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধ যদি ক্রান্তিকালেও থাকে, তাহলে বুঝতে হবে উদ্দেশ্য ভালো না। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুজিবনগর দিবসের আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গরম বেশি পড়লে বিদ্যুতের তার গরম হয়, তখন ঝুঁকিও বাড়ে।’ সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের জন্য এটাও কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যুতের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ভালো ছিল না। জ্বালানি সংকটের মধ্যে এখন আর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব না।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে এখন যে সংকট হচ্ছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফল। বর্তমানে যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি হচ্ছে তাতে বিদ্যুতের ঘাটতি হওয়ার কথা না। শত প্রতিবন্ধকতা শর্তেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’ ১৩ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করে বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরও গরমের কারণে বিদ্যুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর যে পরিমাণ গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির কথা পেট্রোবাংলাকে বলা হয়েছিল, ঠিক ওই পরিমাণ সরবরাহ পাচ্ছে না পেট্রোবাংলা। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ার এটাও একটা কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সারা দেশে সরকারিভাবে ১০০০ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আরও বেশি। বিতরণ কোম্পানিগুলোর হিসাবে এই লোডশেডিং ১৫শ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এখন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে সাড়ে ১৫ হাজারের ওপরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এবার গরমের কারণে অন্য বছরের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ ১১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোর জন্য কিছুটা বিপাকে পড়েছে পিডিবি। না-হলে চলতি বছর আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। ১৬ এপ্রিল উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয় ১৩ হাজার ৯৪৮ মেগাওয়াট। অবশ্য আগের দিন শনিবার নিট উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭৮ মেগাওয়াট। এরপরও পিডিবির হিসাবে সারা দেশে ৯৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। সব চেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে ময়মনসিংহ জোনে। এখানে দৈনিক ১৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানান, তাদের কোনো লোডশেডিং করতে হচ্ছে না। কিছু উপকেন্দ্রে সমস্যার কারণে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ থাকে না। এটাকে লোডশেডিং বলা যাবে না। সোমবার সর্বোচ্চ ১৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ডিপিডিসি এলাকায়। তবে পিডিবি বলছে, ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোয় সব মিলিয়ে ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হচ্ছে। ঢাকায় সব মিলিয়ে চাহিদা ৫ হাজার ২২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হচ্ছে ৫ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে গত বছর সরকার গ্যাস ও তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। ফলে ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং করে সরকার। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এখন দিনে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুটের ওপর গ্যাস দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুতে। আগে এটা ছিল ৮০-৮৫ কোটি ঘনফুট। ফার্নেস অয়েলেরও দাম কমেছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক নতুন কয়েকটি কেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। এতে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে চাহিদার কাছাকাছি ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে তেমন লোডশেডিং ছিল না। এক সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং বাড়তে থাকে। ১৩ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। সেসময়ও ঢাকায় ৩০৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ১৪ এপ্রিল লোডশেডিং ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। সোমবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উৎপাদন ১৪ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ৮৯৬ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকৃত লোডশেডিং আরও বেশি। সূত্রের তথ্যমতে, সোমবার বিদ্যুতের ঘাটতি দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদিত না হওয়ার জন্য জ্বালানি সংকট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। জানা যায়, গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংকটে সোমবার ৪ হাজার ১৫৬ মেগাওয়াট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য ২ হাজার ৬৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দিনে কমপক্ষে ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুট। এছাড়া বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে প্রায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন নগরীর বর্ধিত অংশে দুদিন ধরে বিদ্যুৎ শুধু যাচ্ছে আর আসছে। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করায় ঈদের আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৯০০ মেগাওয়াট। বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫-২০ মিনিট থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার গেলে আর আসার নাম নেই। রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টায় আটবার বিদ্যুৎবিভ্রাট হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দৈনিক ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দুই ঘণ্টা পর এক ঘণ্টা লোডশেডিং করছে। ঝিনাইদহের অধিকাংশ এলাকায় ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার-পাঁচ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা : প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ‘অতিষ্ঠ’ হয়ে ‘বিক্ষুব্ধ’ লোকজন ফেনীর ছাগলনাইয়ার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ছাগলনাইয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বিক্ষুব্ধ দুই সহস্রাধিক জনতা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা চালিয়ে অফিসের গেট, আসবাবপত্র, দরজা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে। এ সময় ভয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।’ স্থানীয়রা বলেছেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে মানুষ। বাসাবাড়ি ও মসজিদে পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। ইফতার, তারাবি, সেহেরি ও নামাজের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোজা রাখা এবং ইবাদত করতেও সমস্যা হচ্ছে মানুষের। এদিকে সিলেটে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎবিভ্রাটের যন্ত্রণায় নগরীতে মধ্যরাতে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। তবে সড়ক অবরোধের প্রায় ১৫ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে এলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ইফতারের আগ থেকেই বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ইফতার ও তারাবির নামাজ পরে রাত ১১টার দিকে বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। তিন দিন ধরে সিলেটের সব এলাকায়ই চলছে চরম বিদ্যুৎবিভ্রাট। একদিকে রমজান, অন্যদিকে গরমের উত্তাপ। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকদিন ধরেই সিলেটে বিদ্যুৎ থাকছে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ইফতারের সময় যেমন বিদ্যুৎ চলে যায়, তেমনই রাতে সেহেরির সময়ও বিদ্যুৎ চলে যায়। দিন-রাত মিলিয়ে ৮-১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না সিলেটবাসী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এপ্রিল ১৭, ২০২৩
ভোলায় নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান - image

ভোলায় নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান

29 এপ্রিল 2023, বিকাল 6:00

ভোলায় একের পর এক জ্বালানি গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ভোলার ইলিশা-১ নামে নতুন একটি কূপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করেছে বাপেক্স। এ নিয়ে জেলার মোট ৯টি কূপে গ্যাসের সন্ধান পেল বাপেক্স। সম্প্রতি আগুন জ্বালিয়ে এ গ্যাস উত্তোলন শুরু করে বাপেক্স। প্রতিদিন এই গ্যাস কূপ থেকে ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে আশা করা করছে সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে জ্বালানি সংকট দূর করার লক্ষ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ৮ মার্চ ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে মালেরহাট সংলগ্ন এলাকায় ইলিশা-১ কুপ এ বাপেক্স খনন শুরু করে। বাপেক্সের নকশা ও লোকেশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার গ্যাসপ্রম কূপ খনন কাজ পরিচালনা করছে। তিন হাজার ৪৩৬ মিটার গভীরতায় তিনটি স্তরে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম স্টেট) মাধ্যমে সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়েছে। এরপর শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আগুন জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি তারা নিশ্চিত করা হয়। বাপেক্সের ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দৈনিক এই কূপে ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এটা একটা স্তরে। আরও দুটি স্তরে পরীক্ষা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ বিসিএফ ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে সময় লাগবে আরও বেশ কিছুদিন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করবেন বলে জানিয়েছেন বাপেক্স। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলায় ইলিশা-১ গ্যাসক্ষেত্রে এর আগে ১৯৯৩ থেকে ৯৪ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কারের পর একে একে সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় শাহবাজপুর ও ভোলা নর্থ নামের আলাদা দুটি গ্যাসক্ষেত্রে আটটি কূপ খনন করা হয়। এসব কূপে মোট গ্যাস মজুদের পরিমাণ এক দশমিক সাত টিসিএফ ঘনফুট বলে জানা গেছে। গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাই করতে আগামী অক্টোবর থেকে নতুন করে তেল গ্যাস অনুসন্ধান করবে বাপেক্সের ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগ।

এপ্রিল ২৯, ২০২৩
ভোলার ইলিশা-১ কূপকে দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র ঘোষণা - image

ভোলার ইলিশা-১ কূপকে দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র ঘোষণা

21 মে 2023, বিকাল 6:00

ইলিশাকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে ইলিশা-১ কূপ দেশের ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পাবে। এছাড়া আরও দুটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে ভোলায়। সোমবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর বারিধারায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, এ গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুত ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, দৈনিক উত্তোলন করা যাবে ২০-২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২৬ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ইলিশা থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। একটা বড় সম্ভাবনার দিক উন্মোচন হলো। দেশের মানুষের জন্য এটা সুখবর।তিনি বলেন, এখানে পাওয়া গ্যাসের দাম ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। একই পরিমাণ আমদানি করা গ্যাসের দাম পড়বে ২৮ হাজার কোটি টাকা। ভোলার গ্যাসক্ষেত্রটি বড় আকারের স্বপ্ন দেখাচ্ছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ভোলার গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে কাজ করছি আমরা। পাইপলাইন নির্মাণ করে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দুই বছরের মধ্যে পাইপলাইন সম্পন্ন করতে চায় সরকার। পাইপলাইনে ভোলার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে লাগবে আরও তিন বছর। তিনি বলেন, যত শিল্প এলাকা হবে ভবিষ্যতে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। ভোলার গ্যাস দিয়ে মানুষকে কীভাবে সুবিধা দেওয়া যায়, সেটা আমরা বিবেচনা করে দেখছি। এর আগে ভোলার ইলিশাকে দেশের নতুন গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে জ্বালানি বিভাগে প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। দেশের গ্যাস সংকট আর ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা জাগাচ্ছে ভোলার ইলিশা। তিনটি স্তরে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার পর বাপেক্সের ধারণা, ইলিশা-১ কূপটিতে মজুত রয়েছে ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এ মজুত দেশের বিদ্যমান অন্তত দশটি গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় বেশি। বাপেক্স বলছে, প্রাথমিক অবস্থায় দৈনিক ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের যোগান দিতে পারবে ইলিশা-১। আর এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে ২৬ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত।গত ৮ মার্চ ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিয়া ইউনিয়নের মালের হাট এলাকায় ‘ইলিশা-১’ কূপ খননকাজ শুরু করে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম। ৩ হাজার ৪৩৬ মিটার গভীরে গ্যাসের সন্ধান পেলে ২৪ এপ্রিল প্রথম স্তরের খননকাজ শেষ করা হয়। প্রথম স্তরের সফলতার পর গত ৭ মে দ্বিতীয় স্তরেও মেলে গ্যাসের সন্ধান। পরে ১৫ মে তৃতীয় স্তরেও পাওয়া যায় গ্যাসের সন্ধান।

মে ২১, ২০২৩
পরিত্যক্ত কূপ সচল, দৈনিক আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন - image

পরিত্যক্ত কূপ সচল, দৈনিক আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন

09 জুন 2023, বিকাল 6:00

পরিত্যক্ত ঘোষণার পর বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির (বিজিএফসিএল) আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৪ নম্বর কূপ থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে ৷ শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে আট মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. শোয়েব। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কূপটি খনন করেছিল চীনের কোম্পানি সিনো প্যাক। পরিত্যক্ত হওয়ার পর ৪৫ দিনের চেষ্টায় বাপেক্স কূপটির সংস্কার করেছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সবার জন্য স্বস্তি ও আনন্দের খবর। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের অধীনে তিতাস-২৪ নং কূপ থেকে আজ হতে দৈনিক আট মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস যুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিডে।’ ‘বাপেক্সসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবিরাম প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো’।‘জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেকোনো সংকট পাড়ি দেবার সামর্থ অর্জন করেছে। আস্থা রাখুন। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো’।

জুন ০৯, ২০২৩
সিলেটে ১০ নম্বর গ্যাসকূপে তেলের সন্ধান - image

সিলেটে ১০ নম্বর গ্যাসকূপে তেলের সন্ধান

09 ডিসেম্বর 2023, বিকাল 6:00

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপের প্রথম স্তরে জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। রোববার (১০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, সবার জন্য এই বিজয়ের মাসে বিরাট সুখবর। সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপে ২ হাজার ৫৭৬ মিটার গভীরতায় খনন সম্পন্ন হয়েছে। এই কূপে চারটি স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। স্তরগুলো প্রায় সাড়ে তিন হাজার মিটারের ঊর্ধ্বে। প্রথম স্তরে আমরা তেলের সন্ধান পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল তেলের প্রবাহ পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হলে তেলের মজুদ জানা যাবে। এর জন্য আরও চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগবে। যদি ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে উৎপাদন করা হয় তাহলে ১৫ বছরের অধিক সাসটেইন করবে। নসরুল হামিদ বলেন, দুই হাজার ৪০০ থেকে ৬০ এবং দুই হাজার ৪০০ থেকে ৭৫ মিটারের আরও একটি ভালো গ্যাসের স্তর পাওয়া যায়। এখানে টেস্ট করলে ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, দুই হাজার ২৯০ থেকে দুই হাজার ৩১০, এই স্তরেও গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরবর্তীতের এক হাজার ৩৯৭ থেকে এক হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় আরও একটি জোন আবিষ্কৃত হয়। যেখানে গত ৮ ডিসেম্বর টেস্ট করে তেলের উপস্থিতি জানা যায়।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৩
৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাসের চাপ - image

৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাসের চাপ

30 ডিসেম্বর 2024, বিকাল 6:00

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা গ্যাস পাইপলাইনে সরবরাহের কাজে যুক্ত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ রাখা হবে ৭২ ঘণ্টা, আর তাতে নতুন বছরের শুরুতেই কমে যাবে গ্যাস সরবরাহ। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়ে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মহেশখালীতে এক্সিলারেট‌ এনার্জি পরিচালিত এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ১ জানুয়ারি বুধবার সকাল ৯টা থেকে ৪ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত একটানা ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস পাবে এবং দেশের সর্বত্র সাময়িকভাবে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন থেকে ২৭০০ থেকে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এরমধ্যে সাগরে ভাসমান দুটি এফএসআরইউ থেকে আসে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি এফএসআরইউ বন্ধ থাকলেও আরেকটি টার্মিনাল দিয়ে দিনে ৫৭০ থেকে ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ, সরবরাহ কমবে ১৫০-১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। “অন্যান্য খাতে দৈনিক প্রায় ৫০-৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমায় দেশের কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করবে।”

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪
গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার হাতে নিচ্ছে দুটি নতুন প্রকল্প। - image

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার হাতে নিচ্ছে দুটি নতুন প্রকল্প।

19 এপ্রিল 2025, বিকাল 6:00

দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা পূরণ ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আজ রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিতব্য ৯ম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। প্রথম প্রকল্পটি হলো ‘তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন’, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৯৮ কোটি টাকা। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হবে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এই দুটি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। দ্বিতীয় প্রকল্পটি ‘বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের খনন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণ’, যা ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হবে। এই দুটি প্রকল্প মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯২০ কোটি টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস চাহিদা ৪,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে প্রায় ১,৭০০–১,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাকিটা আমদানিকৃত। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে আবাসিক, সিএনজি ও শিল্প খাতে। এই ঘাটতি কমাতেই সরকার গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন জানিয়েছেন, এ দুটি প্রকল্প ছাড়াও একনেক সভায় আরও আটটি মন্ত্রণালয়ের ১৪টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—চট্টগ্রামের বে টার্মিনাল মেরিন অবকাঠামো উন্নয়ন, মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি সেক্টর প্রকল্প, বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ যন্ত্রপাতির উন্নয়ন, কৃষিখাতে টেকসই ও সহনশীল বিনিয়োগ সহায়তা, গ্রিন রেলওয়ে পরিবহন এবং সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত বে টার্মিনাল প্রকল্প, যার প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বন্দর কার্যক্রমে গতি আসবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এপ্রিল ১৯, ২০২৫
এলএনজি কার্গো বিতর্কে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট - image

এলএনজি কার্গো বিতর্কে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট

14 আগস্ট 2026, বিকাল 1:20

এলএনজি কার্গো বিতর্কে দেশে তীব্র গ্যাস সংকটএকটি কার্গো। একে ঘিরেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশ। সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজিবাহী কার্গোটিকে ‘পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট। তাই এটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।সরকার বৈরী আবহাওয়ার ‘অজুহাত’ দিলেও মূলত এই আপত্তির কারণেই তিন দিন ধরে কার্গোটি বহির্নোঙরে ভাসছে। এতে গ্যাসের সরবরাহে ভয়াবহ ধস নেমেছে। শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে হাহাকার দেখা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে দৈনিক ১৮৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এগুলো হলো-মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল এবং দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপের সামিট এলএনজি টার্মিনাল। দুটিই আবার পরিচালনা করে এক্সিলারেট। এলএনজি খালাস না হওয়ায় ২০ জুলাই যেখানে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় করা হয়েছে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। ১০ বছর আগেও এর চেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হতো।একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করে ওই কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু এক্সিলারেট থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আরামকোর কার্গো সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করে গ্যাস খালাস করা যাবে না। কারণ, এ ধরনের কার্গো এই টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়।সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, তাহলে এ ধরনের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করা হলো কেন। সরকারের পক্ষে এলএনজি আমদানিকারক রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালেও এ ধরনের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করা হয়েছে এবং এক্সিলারেট সেই কার্গো থেকেই তা খালাস করেছে।পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বিটল এশিয়ার একটি এলএনজিবাহী কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় আসবে। সেটি হয়তো শেষ পর্যন্ত সামিটের টার্মিনালে সংযুক্ত করা হবে। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে পুরোদমে চালু করতে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল ২ থেকে ৩ দিনের জন্য বন্ধ করা হবে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে।বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই নাজুক। ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুনের ঘটনার পর এই বিপর্যয় দেখা দেয়। সরবরাহ দৈনিক ২৬৫ কোটি থেকে কমে ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে ওই সময়। ৫ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির আংশিক চালু হলে সরবাহ কিছুটা বেড়ে ২৩৫ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন কার্গো বিতর্কের কারণে সেই সরবরাহ একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি করা এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়। গত মাসের শেষে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার দরপত্র দিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কোনো উপায় না দেখে জি-টু-জির ভিত্তিতে তড়িঘড়ি করে সৌদি কোম্পানি আরামকো থেকে মস টাইপ কার্গো জাহাজে করে এলএনজি আমদানি করা হয়। সাধারণত দুই ধরনের কার্গোতে এই এলএনজি পরিবহণ করা হয়-একটি মস টাইপ, অন্যটি মেমব্রেইন টাইপ।বাংলাদেশ সাধারণত মেমব্রেইনে করেই এলএনজি আমদানি করে। কিন্তু এবার করল মস টাইপে। ১১ আগস্ট মধ্যরাতে আল হামরা নামে এই কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। বলা হয়, তখন সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে বাতাসের গতি ১৫ থেকে ২০ মিটার থাকলে কার্গোগুলো টার্মিনালের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হয়ে যায়। জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, এখন মাতারবাড়ীতে বাতাসের যে গতি তাতে অন্য জাহাজ সহজে টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। কিন্তু আরামকোর আল হামরা কার্গো সংযুক্ত করতে সবুজ সংকেত দিচ্ছে না এক্সিলারেট।অনুসন্ধানে দেখা যায়, আসলে বৈরী আবহাওয়া নয়, আরামকোর জাহাজকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে মার্কিন ওই কোম্পানি। এ কারণে জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বারবার অনুরোধ করেছেন এক্সিলারেটকে। এর জবাবে এক্সিলারেট জানিয়েছে, টার্মিনালটি সামিট গ্রুপের। তাই কোনো ঝুঁকি নিতে হলে সামিটকে নিতে হবে। এক্সিলারেট কোনো ঝুঁকি নেবে না।এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিটের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, আল হামরা জাহাজটি তারা যাচাই করে দেখেছে। সেটি পুরোনো মডেলের এবং সামিটের টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাই এটি কোনোভাবেই খালাস করা যাবে না। তাছাড়া কোনো ধরনের এলএনজিবাহী কার্গো এখানকার টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য তার একটি তালিকা অনেক আগেই পেট্রোবাংলাকে দেওয়া হয়েছে। আরামকোর কার্গো ওই তালিকার মধ্যে পড়ে না। সুতরাং তারা জেনে-শুনে কেন এই কার্গো আনল।এ বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও এক্সিলারেট এনার্জি কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বুধ ও বৃহস্পতিবার ইমেইল ও এসএমএস করেও কোনো সাড়া মেলেনি।সামিট এলএনজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েদুল আলমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিবেদককে পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।তবে আরপিজিসিএল-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক্সিলারেট এনার্জি বা সামিটের এই তথ্য সঠিক নয়। কারণ, ২০২১ সালে ‘মারায়েহ’ নামে একই টাইপের কার্গো বাংলাদেশে এসে এলএনজি খালাস করে গেছে। এই এক্সিলারেটই তখন খালাস করেছে। এ প্রসঙ্গে আরপিজিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মন্তব্য নিতে বারবার যোগযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।এখন কী হবে; বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকার এখনো এক্সিলারেটকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। যাতে তারা আরামকোর পাঠানো ওই কার্গো থেকে খালাসের অনুমতি দেয়। যদি তা আজ-কালের মধ্যে না দেয়, তাহলে আগামীকাল বিটল এশিয়ার একটি কার্গো আসবে। সেটি সামিটের টার্মিনালে সংযুক্ত করা হবে। তখন গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
জ্বালানি সংকট সমাধানে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী - image

জ্বালানি সংকট সমাধানে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

02 সেপ্টেম্বর 2026, বিকাল 5:37

দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে বহুমুখী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মৌখিক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য ও রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দুর্বল করে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত অনুসন্ধান না চালানো এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে দেশকে স্বনির্ভর ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে নিতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস যুক্ত হয়েছে।আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে প্রতিদিন আরও ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন গ্যাসের সন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাপেক্সকে আরও সক্ষম করে তুলতে দুটি আধুনিক রিগ কেনার প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সমুদ্র ও স্থলভাগে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। 

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস! - image

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস!

18 সেপ্টেম্বর 2026, বিকাল 2:18

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস!বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আগামীকাল শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদের আরও চারটি কূপ থেকে প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল হিসেব এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ কূপ খননের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে মোট প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, বিজিএফসিএলের আওতাধীন তিতাস-২৮ নম্বর কূপ আগামীকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এতে আমদানি-নির্ভরতার চাপ কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন বলেন, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। কূপটির গভীরতা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। উদ্বোধনের পরপরই এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।তিনি জানান, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ আগামীকাল উৎপাদনে যাবে। অন্য কূপগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কূপটির খনন গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে।তিনি বলেন, গভীরতার কারণে কূপটির খনন ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। কোনো ধরনের ভূতাত্ত্বিক জটিলতা দেখা না দিলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। কূপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে কূপটির লগিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। তিতাস-২৯ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।এছাড়া তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপের খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৪ হাজার ৫০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮ থেকে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মজুত প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এর মজুত আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিতাস-৩১ একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।প্রাথমিকভাবে কূপটির মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুত যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ মজুদের পরিমাণ নিশ্চিত করতে কূপটির খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নতুন মজুতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
footer small logo

যোগাযোগ :

এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ

ফোনঃ +88-02-55011931

সোশ্যাল মিডিয়া

youtube logotwitter logofacebook logo

Design & Developed by:

developed-company-logo