
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এখন এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। তেহরানের নেতৃত্বের বিশ্বাস, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তুলনায় তাঁরা দীর্ঘ সময় এই সংকট মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখেন। সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। তবে ইরানের শীর্ষ নেতারা একে ট্রাম্পের ‘পিছু হটা’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, তেহরানকে শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েই ওয়াশিংটন এখন আলোচনার অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে।
সংকটের মূলে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান এই পথ দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করে রেখেছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্প এই ব্যর্থতার জন্য ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে দায়ী করলেও তেহরানের অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলছে, ট্রাম্প আলোচনার আগেই অবরোধ তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, এমনকি ইরানের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে ‘যুদ্ধের শামিল’ এবং ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইরানের বর্তমান কৌশল হলো ট্রাম্পের সামরিক হুমকিকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে টিকে থাকা। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক মিম ও ভিডিওর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে উপহাস করা হচ্ছে। ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জয়ী হতে না পেরে এখন কূটনৈতিক মারপ্যাঁচে নিজেদের মুখ রক্ষার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে সময়ক্ষেপণ করাকেই নিজেদের বড় জয় হিসেবে দেখছে তেহরান।
তবে দুই দেশের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের মাঝে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ ইরানিরা। যুদ্ধ ও অবরোধের ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক বিক্ষোভ দমনের পর বর্তমানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও নিচে নেমে গেছে। চাকরি হারানো, ওষুধের সংকট এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যে ইরানিদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ আবদোররসুল দিভসাল্লারের মতে, আলোচনা সফল হওয়ার পথে প্রধান বাধা হলো উভয় পক্ষের অহমিকা। দুই পক্ষই মনে করছে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এবং অপর পক্ষকে নিজেদের শর্ত মানাতে বাধ্য করতে পারবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সতর্ক করে বলছে, ইরান সরকার একে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে, যেখানে সাধারণ জনগণের কষ্টের চেয়ে শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই অচলাবস্থা নিরসনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।
/টিএ