
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তজনা নিরসনে কোনো কার্যকর চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ছে না। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটাতে দুই সপ্তাহের জন্য যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তার সময়সীমা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এমন সংকটময় মুহূর্তে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। তেহরান তাদের দাবিতে অনড় থাকলেও ওয়াশিংটন এখনও একটি ‘দারুণ’ ফলাফলের আশায় বুক বেঁধে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নন। ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সন্তোষজনক চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, তবে সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা ‘খুবই কম’। মূলত
চুক্তি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, একটি ‘খারাপ চুক্তি’ করার চেয়ে সময় নেওয়া ভালো। তবে এই সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ফলাফল যে ভয়াবহ হতে পারে, তার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট সময় থাকলেও কোনো শক্ত ভিত্তি ছাড়া তিনি কেবল আলোচনার খাতিরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী নন।
যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে পুনরায় সরাসরি সামরিক সংঘাত বা হামলা শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সোজাসুজি বলেন, "যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে আমি অবশ্যই সেটি (হামলা) আশা করব।" যদিও যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান গত এক সপ্তাহে বারবার পরিবর্তন হতে দেখা গেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একেক সময় একেক রকম মন্তব্য করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছিলেন।
অন্যদিকে ইরান নিজের অবস্থানে আগের মতোই অনড়। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসবে না। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। এই অনড় অবস্থান এবং ট্রাম্পের হামলার হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/টিএ