
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই আবারও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তেহরান তার চেয়ে বহু গুণ দ্রুত গতিতে তা পুনর্গঠন করছে। যুদ্ধবিরতির এই সুযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চারসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণে পুরো দমে কাজ করছে দেশটিকে, যা মার্কিন প্রশাসনের পূর্বানুমানকে ভুল প্রমাণ করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার চেয়ে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে এবং হামলার পরও দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সক্ষমতা ও অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিন্ন চিত্রে দেখা গেছে, হামলার পরও ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং প্রায় ৫০ শতাংশ ড্রোন এখনো সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের এই সামরিক পুনর্গঠন নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরেই তথ্যের স্পষ্ট অমিল দেখা গেছে। সম্প্রতি সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন যে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং তা পুনর্গঠনে ‘বছরের পর বছর’ সময় লাগবে। তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বছরের পর বছর নয়, বরং মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে ইরান শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ওয়াশিংটন আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত। এর জবাবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে এবং আরও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানবে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইরানের এই দ্রুত সামরিক পুনরুত্থান মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনাকে নতুন করে আরও এক দফা সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/টিএ