
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, সাহসী নেতৃত্ব আর কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে পথ দেখানোর ক্ষমতা—ভারতের নারী ক্রিকেটে হারমানপ্রীত কৌরের পরিচয় বহুমাত্রিক। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় নারী দল পেয়েছে ঐতিহাসিক সাফল্য, জিতেছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, এশিয়ান গেমসে এসেছে সোনার পদক। দীর্ঘদিনের সেই সফল অধ্যায়ের ইতি টেনে এবার ভারতের সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন হারমানপ্রীত। তাঁর বিদায়ে ভারতীয় নারী ক্রিকেটে একটি বড় যুগের সমাপ্তি ঘটল।
২০১৬ সালে প্রথমবার ভারতের পূর্ণকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়া হারমানপ্রীত বছরের পর বছর দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। ব্যাটার হিসেবেও তাঁর আগ্রাসী মানসিকতা ও বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সামর্থ্য তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত
গুয়াহাটিতে বিসিসিআইয়ের একটি পর্যালোচনা সভার পর হারমানপ্রীতের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা আসে। সভায় গত কয়েক মাসের দলের পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন হারমানপ্রীত, দীর্ঘদিনের সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা এবং প্রধান কোচ অমল মজুমদার। সভায় হারমানপ্রীতকে সিদ্ধান্তটি নিতে রাজি করানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব স্মৃতি মান্ধানার হাতে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ বার্তায় হারমানপ্রীত জানিয়েছেন, নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য সহজ ছিল না। জাতীয় দলের জন্য নিজের সময়, শ্রম, ঘাম এমনকি ব্যক্তিগত স্বপ্নের কিছু অংশও বিসর্জন দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে নেওয়া তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে দলের স্বার্থই কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন হারমানপ্রীত। তাঁর ভাষায়, তিনি দেখেছেন দলের সবচেয়ে কঠিন সময়, হৃদয়ভাঙা পরাজয়, সমালোচনা ও সন্দেহের মুহূর্ত; আবার দেখেছেন সাফল্য, জয় ও দেশের প্রতিনিধিত্বের গর্বও।
অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ক্রিকেট থেকে সরে যাচ্ছেন না হারমানপ্রীত। বরং নতুন অধ্যায়ে আরও বেশি স্বাধীনভাবে নিজের খেলায় মন দিতে চান তিনি। তাঁর বিশ্বাস, ভারতীয় নারী দল এখন প্রতিভা, চরিত্র ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ এবং ভবিষ্যতের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে। নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হলেও ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা শেষ হবে না—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি। হারমানপ্রীতের নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হলেও ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর যাত্রা অব্যাহত থাকছে; সামনে তাই দেখা যেতে পারে আরও আগ্রাসী ও স্বাধীন এক হারমানপ্রীতকে।
টি/