
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ভারতের উত্তর প্রদেশের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবা হায়দার। ২০০৭ সালে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। শিকাগোতে যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে যুক্ত হন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় রাজনীতিতে। প্রথম নির্বাচনে পরাজিত হলেও হাল ছাড়েননি। অবশেষে ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ৮৪তম হাউস ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইলিনয়ের আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন সাবা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাবা হায়দার পেয়েছেন ২০ হাজার ৭৫৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রায়ান স্কোপা পেয়েছেন ৮ হাজার ৫২০ ভোট। এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ৩০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম সাবা। তার পরিবারের শিকড় ভারতের উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর জেলার আওরঙ্গাবাদে। ৪২ বছর বয়সি সাবা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বন্যপ্রাণী বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। তার বাবা সৈয়দ আলী হায়দার অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এবং মা চাঁদনি। ২০০৬ সালে কম্পিউটারবিজ্ঞান প্রকৌশলী আলী কাজমিকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শিকাগো এলাকায় বসতি গড়েন সাবা। সেখানে সার্টিফায়েড যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কলেজ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও করপোরেট পেশাজীবীদের যোগব্যায়াম শেখানোর পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন তিনি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সাবা। ২০২২ সালে ডুপেজ কাউন্টি বোর্ডের নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রায় এক হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও থেমে থাকেননি। ২০২৪ সালে একই বোর্ডের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাটি গুস্টিনকে পরাজিত করে সদস্য নির্বাচিত হন। পরে পরিবেশ, কৌশলগত পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
২০২৬ সালের নির্বাচনে সাবার প্রচারের মূল বিষয় ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন। তার নির্বাচনী এলাকা ইলিনয়ের ৮৪তম হাউস ডিস্ট্রিক্টের আওতায় উইল, ডুপেজ, কেইন ও কেন্ডাল কাউন্টির কিছু অংশ রয়েছে। সাবা জানান, নির্বাচনের আগে টানা ১৫ মাস তার প্রচার দল এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উদ্বেগের কথা শুনেছে। এসব মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্ধারণ করা হয়। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের প্রচারাভিযানকে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার লক্ষ্য কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গড়ে তোলা।
সাবার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন। বাবা সৈয়দ আলী হায়দার বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের পরিবারের জয় নয়, বরং পুরো দেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত।’ মা চাঁদনির ভাষ্য, স্বামীর সহযোগিতা ও উৎসাহ সাবার পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে সাবা জানিয়েছেন, যে কমিউনিটি তাকে ও তার পরিবারকে ইলিনয়ে নিজেদের ঘর গড়ে তুলতে সহযোগিতা করেছে, তাদের জন্য কাজ করাই তার রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম প্রেরণা। ইলিনয়ের অঙ্গরাজ্য রাজধানী স্প্রিংফিল্ডে কর্মজীবী পরিবারগুলোর সমস্যা ও উদ্বেগ তুলে ধরার পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করে সেগুলোর সমাধান খুঁজতে চান তিনি। যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সেখান থেকে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় পৌঁছানোর এই যাত্রায় নতুন অধ্যায় যুক্ত করলেন উত্তর প্রদেশের সাবা হায়দার।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইটিভি ভারত
টি/