
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সৌদির নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকে বসছে মক্কা জোট
হুথিদের উপর্যুপরি ও একের পর এক বিধ্বংসী হামলায় রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড খ্যাত আরামকোর তেল স্থাপনা থেকে শুরু করে রিয়াদের বিভিন্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থান।
ঘন ঘন ধেয়ে আসা এই আকাশপথের হামলা সৌদি শাসকদের এতদিনের সাজানো নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাসকে একেবারে নস্তানবুদ করে ছেড়েছে। এতদিন যে যুক্তরাষ্ট্রকে তারা নিজেদের সবচেয়ে বড় "রক্ষাকবচ" মনে করে আসছিল, সংকটের এই চরম মুহূর্তে তাদের কাছ থেকে কোনো উপযুক্ত বা কার্যকর সামরিক সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না।
এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। ন্যাটোর অনুকরণে তৈরি এই চুক্তির মূল শর্ত ছিল— জোটের যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা মানেই তা সবার ওপর হামলা। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে হুথিদের উপর্যুপরি হামলার মুখেও পাকিস্তান ও তুরস্কের দৃশ্যমান কোনো সামরিক পদক্ষেপ না পাওয়ায় এর কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছিল। অনেকেই একে কেবলই "কাগুজে জোট" বলে টিপ্পনী কাটছিলেন।
সেই অচলাবস্থা ভেঙে এবার নড়েচড়ে বসছে মক্কা জোট। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। মক্কাসহ সৌদির বিভিন্ন বেসামরিক ও তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জোটের নেতারা এবার কাগুজে প্রতিশ্রুতি থেকে বেরিয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ধারাবাহিকতায়, চুক্তিকে কার্যকর রূপ দিতে এবং সৌদির প্রতিরক্ষায় সরাসরি সহায়তার সুনির্দিষ্ট উপায় খুঁজতে খুব শিগগিরই তিন দেশের সেনাপ্রধানরা একটি বিশেষ জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এই বৈঠকটি সৌদির নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।