
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। দেবীর চরণে শেষ পুষ্পাঞ্জলি, দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলায় মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি মণ্ডপে মণ্ডপে ছড়িয়ে পড়েছে বিদায়ের বিষাদ। ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘আসছে বছর আবার হবে’। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
সকাল থেকেই বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কের গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপ, রমনা কালী মন্দির ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। নারীরা সিঁদুর, পান, ফুল ও মিষ্টি দিয়ে দেবীকে বরণ করেন। পরে দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে একে অপরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপের প্রধান পুরোহিত সুনীল চক্রবর্তী জানান, সকাল ৮টা ৫ মিনিটে দশমীর পূজা শুরু হয়। ধর্মীয় আচার শেষে দর্পণ বিসর্জন ও শেষ পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। সকাল ১০টার পর শুরু হয় সিঁদুর খেলা।
রমনা কালী মন্দিরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। সেখানে বিদায়ী আরতি, শেষ অঞ্জলি, নাচ-গান ও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশুরা। অন্যদিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে বেলা ১১টা থেকে দেবীবরণ এবং দুপুর ১২টা থেকে সিঁদুর খেলা শুরু হয়। লাল-সাদা শাড়িতে সজ্জিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে স্বামীর দীর্ঘায়ু ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। ছোটরা বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়, আর সমবয়সীরা কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উৎসবে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, সারা বছর এই কয়েকটি দিনের জন্য অপেক্ষা করেন তারা। উৎসব শেষ হয়ে আসায় মন খারাপ হলেও আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের প্রত্যাশা তাদের আনন্দ জোগায়। ভক্ত অনিন্দিতা দেবনাথ বলেন, দেবীর কাছে সবার সুস্থতা ও ভালো থাকার প্রার্থনা করেছেন তিনি। রিম্পা সেনের ভাষ্য, দেবী দুর্গা সবাইকে বিপদ থেকে রক্ষা করবেন—এমন বিশ্বাস নিয়েই তারা বিদায়ের দিন পার করছেন। ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সহসভাপতি তাপস কুমার পাল জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা, যা পলাশী, জগন্নাথ হল, দোয়েল চত্বর, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর সড়ক ও রায়সাহেব বাজার হয়ে ওয়াইজঘাটে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পুত্র-কন্যাদের নিয়ে কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে যান দেবী দুর্গা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনের সূচনা হওয়ার পর আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে দুর্গোৎসব। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সেই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তাই শেষ দিনে ভক্তদের মধ্যে যেমন থাকে আনন্দ, প্রার্থনা ও সম্প্রীতির আবহ, তেমনি থাকে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা। সেই আবেগ আর আগামী শরতে দেবীর ফিরে আসার প্রত্যাশা নিয়েই রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—‘আসছে বছর আবার হবে’।
টি/