
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বালেন্দ্র শাহ। এক সময়ের জনপ্রিয় র্যাপার থেকে কাঠমুন্ডুর মেয়র, আর সেখান থেকে সরাসরি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে তার এই যাত্রা নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তরুণ এই নেতাকে ঘিরে এখন নতুন প্রজন্মের বিশাল প্রত্যাশা, যারা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল।
১৯৯০ সালে জন্ম নেওয়া বালেন্দ্র শাহ কেবল একজন রাজনীতিবিদই নন, তিনি পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারও। ভারতের কর্ণাটকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যখন নিজের ক্যারিয়ার গড়ছিলেন, ঠিক তখনই তার সংগীত সত্তা জেগে ওঠে। র্যাপ সংগীতের মাধ্যমে তিনি সমাজের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যে
২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমুন্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই তার রাজনীতির মাঠের পরীক্ষা শুরু হয়। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নগর ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেন, যা তাকে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার মুখোমুখিও দাঁড় করায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও তার দৃঢ়তা স্পষ্ট ছিল, যা মূলত তার কর্মপদ্ধতিরই প্রতিফলন।
স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করা বালেন্দ্র শাহের জন্য ছিল এক চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ। তবে তার নেতৃত্বে তার দল নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির মতো অভিজ্ঞ নেতাকে পরাজিত করে তিনি যে নাটকীয় জয় তুলে নেন, তা বিশ্বরাজনীতিতে বিরল। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল তাকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।
বালেন্দ্র শাহের এই অভাবনীয় উত্থান মূলত তরুণদের পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে জর্জরিত নেপালের মানুষ এখন তার নেতৃত্বে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন দেখছে। তবে তার পথ মোটেও মসৃণ নয়; পূর্বের কঠোর সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তার নেতৃত্ব, উদ্যম এবং নতুন রাজনৈতিক চিন্তাধারা আগামী দিনে নেপালের ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
/টিএ