
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি একটি নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির রকেট ইঞ্জিনের সফল ‘গ্রাউন্ড টেস্ট’ সম্পন্ন করেছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন সশরীরে উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি তদারকি করেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। নতুন এই ইঞ্জিনে ‘কঠিন-জ্বালানি’ (Solid-fuel) ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। লিকুইড ফুয়েলের তুলনায় সলিড-ফুয়েলযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উৎক্ষেপণ করা যায়, কারণ এতে দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। ফলে যুদ্ধের ময়দানে শত্রু পক্ষকে বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়েই আক্রমণ
কেসিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রাউন্ড জেট টেস্টে অত্যাধুনিক ‘কম্পোজিট কার্বন ফাইবার’ উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। ইঞ্জিনটির সর্বোচ্চ থ্রাস্ট বা উৎক্ষেপণ শক্তি ২ হাজার ৫০০ কিলোটন নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাউন্ড টেস্টের মাধ্যমে রকেটের ইঞ্জিন ও জ্বালানির কার্যক্ষমতা স্থির অবস্থায় রেখে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়ক হবে।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন কিম জং উন। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি উত্তর কোরিয়াকে একটি অপরাজেয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বজুড়ে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতা মূলত ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। যদিও পরীক্ষাটির সঠিক সময় ও স্থান সম্পর্কে পিয়ংইয়ং গোপনীয়তা বজায় রেখেছে, তবে এটি নিশ্চিত যে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মহড়া চালানো হয়েছে। এর ফলে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
/টিএ