
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে পরাজয়ের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কোনো দায় নিতে রাজি নন ট্রাম্প। বরং দলের অন্য নেতাদের দিকে দায় ঠেলে দিয়েছেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এর আগে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দলটি ১১ বছর ধরে এমন সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তবে নির্বাচনের ফলকে নিজের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের কঠোর সমালোচনা করলেও ফল প্রকাশের পর তাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তাদের পাঠানো কিছু বিলে ভেটো দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তাঁর মতে, পরাজয়ের একটি অংশের কারণ ছিল ইরান। তবে একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপের গুরুত্বও ভোটাররা বুঝতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি নিজে ব্যালটে থাকলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো।
পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প দলের নেতাদের সমালোচনা শুরু করেছেন। বিশেষ করে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের পরাজয়ের জন্য তাঁকেই দায়ী করেন তিনি। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার কাছে অ্যাবটের হার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, অ্যাবট যদি ‘রিপাবলিকান ইন নেম অনলি’ বা রাইনো না হতেন, তাহলে তাঁকে হারতে হতো না। এদিকে নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া অনেক প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে ট্রাম্প বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সফর করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অনেক প্রার্থীর প্রচারে ট্রাম্প তাঁদের নিজেদের চেয়েও বেশি ভালো কাজ করেছেন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় হোয়াইট হাউসে হতাশা ও আত্মরক্ষামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প ও তাঁর মন্ত্রিসভার শীর্ষ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে বসে নির্বাচনের ফল পর্যবেক্ষণ করেন। এদিকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের পরও ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়া অনেকেই ইরান সংঘাতের সমাধান হলে জ্বালানির দাম কমার পর নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করতে পারেন। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এখন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটিই হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
টি/