
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়েও ইরানের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেন, ইরান ‘মক্কা শান্তি চুক্তি’কে তাদের দেশের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে মনে করে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তেহরানের উদ্বেগের কারণ নেই। বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে
আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে পরস্পরের সহযোগিতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি দেশগুলোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহানাবাদি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে ইরান প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না। বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি না করে নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা করতে সক্ষম হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের বাইরের মানুষের স্বার্থেও আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
/টি