
এটিএন বাংলা, ওয়াসা ভবন, ২য় তলা, ৯৮ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +88-02-55011931
এ সম্পর্কিত আরও খবর
‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েক লা শারিকা লাকা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। মঙ্গলবার (২৬ মে) পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক ধাপ ‘উকুফে আরাফাহ’ পালনে ১৬ লাখেরও বেশি হাজি এই পবিত্র ময়দানে সমবেত হয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরব নিউজ এই গভীর ভক্তি, আত্মত্যাগ ও প্রার্থনার দৃশ্য তুলে ধরেছে। এর আগে সোমবার মিনায় ‘তারবিয়াহর দিন’ অতিবাহিত করে নিজেদের আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করার পর, জিলহজ মাসের নবম দিনে ভোর থেকেই হাজিরা দলে দলে আরাফাতে জড়ো হতে শুরু করেন।
ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। মহানবী
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি ইসলামী ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি, যা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের মহাসুযোগ। এছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে এই আরাফাত পাহাড়েই বিদায় হজের ঐতিহাসিক শেষ খুতবা দিয়েছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.); যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবজাতির জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার নীতিগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশ্যে সমসাময়িক ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনামূলক আরাফাতের খুতবা দেওয়া হয়। এরপর হাজিরা মহানবীর সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্ত করে আদায় করেন।
তীব্র গরমের মাঝেও দিনভর হাজিরা অত্যন্ত বিনয় ও আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে ক্ষমা প্রার্থনা ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। এদিকে চলতি বছর তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকায় সৌদি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করেছে। হাজিদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সেবা ও পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হাজিদের হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে প্রচুর পানি পান এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
পবিত্র এই ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি শেষে হাজিরা এখন মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হতে শুরু করেছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে সংক্ষেপে আদায় করবেন। আজ রাতে খোলা আকাশের নিচে মুজদালিফায় ইবাদত ও বিশ্রামের পাশাপাশি মিনায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার আনুষ্ঠানিকতার জন্য কঙ্কর বা পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা। এই পাথর সংগ্রহের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ধাপের প্রস্তুতি।